“মন্দিরে পুরোহিতরাও ধর্ষক!” আইসা নেত্রী নেহা বোরার বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় দেশ, ক্ষোভে ফেটে পড়ল বিজেপি থেকে ‘ইন্ডি’ জোট!

নিট ইউজি (NEET-UG) আন্দোলন থেকে শুরু করে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা প্রতিবাদ—সাম্প্রতিক সময়ে বারেবারেই চর্চায় উঠে এসেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। তবে এবার আন্দোলনের কারণে নয়, মন্দির ও পুরোহিত সমাজকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন এই যুব নেত্রী। তাঁর একটি পুরনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হতেই একযোগে সুর চড়িয়েছে শাসকদল বিজেপি সহ বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের একাধিক প্রভাবশালী শরিক দল।

ঠিক কী বলেছেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে নেহা বোরাকে দাবি করতে শোনা যায়, মন্দির প্রাঙ্গণে পুরোহিতরাও গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে যুক্ত থাকেন। বক্তব্যের সমর্থনে তিনি ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত কাঠুয়া ও উন্নাও কাণ্ডের উদাহরণ টেনে আনেন। নেহার অভিযোগ, সমাজব্যবস্থায় ‘ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা’র কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, দরিদ্র ও নারীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি ওই আবহাওয়ায় ব্রাহ্মণ নারীরাও নিরাপদ নন বলে তিনি দাবি করেন।

কড়া তোপ বিজেপির: “রাহুল গান্ধীর পোস্টার গার্ল” নেহা বোরার এই সমগ্র পুরোহিত সমাজকে নিয়ে ঢালাও মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলীয় জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি ভিডিওটি পোস্ট করে নেহাকে “রাহুল গান্ধীর পোস্টার গার্ল” বলে কটাক্ষ করেন এবং মন্তব্যটিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে থাকা ‘হিন্দুবিদ্বেষী’ চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ বলে তোপ দাগেন।

অন্য দিকে, বিজেপি নেতা গৌরব ভাটিয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, “নেহা কি কখনো কোনো মাদ্রাসাকে নিয়ে এমন মন্তব্য করার সাহস দেখাতে পারবেন?” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, গত ১৫ অক্টোবর এই আইসা নেত্রীই বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে শাসনব্যবস্থা বদলের ডাক দিয়েছিলেন।

‘ইন্ডি’ জোটেও চরম অস্বস্তি, সরব শিবসেনা ও সমাজবাদী পার্টি: নেহার এই মন্তব্যে শুধু বিজেপিই নয়, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের মিত্র দলগুলিও। শিবসেনা (ইউবিটি)-র প্রবীণ নেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, “আমি নিজে একজন ব্রাহ্মণ নারী হয়ে বলছি, এই ধরনের উস্কানিমূলক ভাষা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” সমাজবাদী পার্টির (SP) পক্ষ থেকেও এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, সব সমাজেই ভালো-মন্দ মানুষ থাকে, কিন্তু তার জন্য পুরো পুরোহিত বা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে দোষী সাব্যস্ত করা অনুচিত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মারফত দিল্লি পুলিশে অভিযোগ: পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে, ইতিমধ্যেই আইসা নেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড অমিতা সচদেবা দিল্লি পুলিশের কাছে নেহা বোরার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখন দেখার, বিতর্ক ও আইনি জালে জড়ানো এই যুব নেত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়।

রাজনৈতিক বা অন্যান্য বিষয়ে আপনার কি আর কোনো সংবাদের পেশাদার পুনর্লিখন প্রয়োজন?

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *