ওষুধ দোকানের আড়ালে কোটি টাকার নেশার ব্যবসা! দুর্গাপুরের অভিজাত আবাসন থেকে বিপুল ফেনসিডিল-গাঁজা উদ্ধার, ধৃত সুদীপ

শিল্পশহর দুর্গাপুরের বুকেই কি জাঁকিয়ে বসেছিল এক বিরাট ও ভয়ঙ্কর মাদক কারবারের চক্র? নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশের সাম্প্রতিক এক বিশাল অভিযানে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। ওষুধের দোকানের আড়ালে দিনের পর দিন নিষিদ্ধ ড্রাগস ও মাফিয়া কারবার চালানোর অভিযোগে এক পরিচিত ওষুধ ব্যবসায়ীকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নিষিদ্ধ কোডিন ট্যাবলেট এবং গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম সুদীপ মুখোপাধ্যায়।

গভীর রাতে স্টিল পার্কের বাড়িতে ড্রামাটিক রেইড: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার অন্তর্গত স্টিল পার্ক মোড় এলাকায়। সোমবার গভীর রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় নিউ টাউনশিপ থানার বিশেষ টিম। তল্লাশি চালাতেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান তদন্তকারীরা। ঘর থেকে উদ্ধার হয় ২৮৫ বোতল বিষাক্ত কোডিন সমৃদ্ধ ফেনসিডিল সিরাপ, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নারকোটিক ট্যাবলেট এবং একাধিক গাঁজার প্যাকেট। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সুদীপকে সরাসরি হেফাজতে নেয় পুলিশ।

শিক্ষানগরীকে টার্গেট করেছিল মাদক চক্র? একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ ব্যবসায়ীর নিজস্ব বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক ও কোডিন সিরাপ বাজেয়াপ্ত হওয়ায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রীত সিং এই বিষয়ে জানান, “ফুলঝোড় ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২৮৫ বোতল ক্ষতিকর কোডিনযুক্ত সিরাপ ও ক্যাটাগরি ভুক্ত নিষিদ্ধ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঘটনার শেকড় কতদূর ছড়ানো, তা জানতে ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্টিল পার্ক, ফুলঝোড় এবং বিধাননগর দুর্গাপুরের অত্যন্ত অভিজাত এবং শিক্ষাকেন্দ্রিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে একাধিক স্বনামধন্য বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজ থাকায় ভিনরাজ্য থেকেও হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনার তাগিদে থাকেন। দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সন্ধ্যার পর এলাকার বেশ কিছু কিশোর, যুব সম্প্রদায় ও পড়ুয়াদের একটি অংশকে নিশানা করে আন্তর্জাতিক কায়দায় ছড়ানো হচ্ছিল এই ড্রাগস সাপ্লাই চেইন। ওষুধের দোকানকে কভার হিসেবে ব্যবহার করে সুদীপ এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন কি না, এবং এই বিষাক্ত ব্যবসার নেপথ্যে কোন কোন বড় মাথার যোগসূত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *