মোবাইলের এক ক্লিকেই আসল-নকল বাজি চিনে নিন! দীপাবলির আগে মালদার পুলিশ সুপারের এই অভিনব টিপস জানেন কি?

দীপাবলির আলোর উৎসবে মেতে ওঠার আগে বাজি কেনার বাজারে ক্রেতাদের বিভ্রান্তি দূর করতে এক অভিনব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল মালদা জেলা প্রশাসন এবং মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স। বাজারে চলা অবৈধ বা জাল গ্রিন ক্র্যাকারের ভিড়ে আসল ও বৈধ পরিবেশবান্ধব বাজি চেনার সহজ উপায় হাতে-কলমে করে দেখালেন মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং। তাঁর এই সচেতনতামূলক বার্তা এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।
কিউআর কোড স্ক্যান করলেই বাজির আসল সত্য সামনে:
সামনেই দীপাবলি, আর তার আগেই জমজমাট মালদা শহরের উৎসবের বাজার। তবে বাজির নামে দূষণ এড়াতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ সুপার অনুপম সিং পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের শব্দবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন মেনে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বাজি’ (Green Cracker) ব্যবহারেরই অনুমতি রয়েছে।
কিন্তু সাধারণ ক্রেতা বুঝবেন কী করে কোনটি আসল আর কোনটি নকল গ্রিন বাজি? এর সমাধান হিসেবে পুলিশ সুপার জানান, সমস্ত বৈধ ও অনুমোদিত বাজির প্যাকেটে একটি বিশেষ কিউআর কোড (QR Code) দেওয়া থাকে। ক্রেতারা বাজার থেকে বাজি কেনার সময় নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ওই কিউআর কোডটি স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে জানতে পেরে যাবেন বাজিটির শংসাপত্র, বৈধতা এবং অনুমোদিত প্রস্তুতকারক বা নির্মাতা সংস্থার যাবতীয় তথ্য।
এগ্রিকালচার ফার্ম ময়দানে বসেছে বিশেষ বাজি বাজার:
সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য এবং এক ছাদের নিচে নিরাপদ কেনাকাটার ব্যবস্থা করতে গত ২ নভেম্বর থেকে মালদা শহরের এগ্রিকালচার ফার্ম ময়দানে শুরু হয়েছে ‘মালদা গ্রিন বাজি বাজার’। এখানে একাধিক স্টলে নিখাদ পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজি বিক্রি হচ্ছে।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক জানিয়েছেন, এই বাজি বাজারের প্রতিটি দোকানের প্রতিটি বাজির প্যাকেটে নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট কোড বা কিউআর কোড রয়েছে। ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন, তার জন্য কোড স্ক্যান করেই বাজি যাচাই করার সুবিধা রাখা হয়েছে।
ফানুস ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা:
শুধু বাজি কেনাই নয়, দীপাবলির আনন্দে আকাশে ফানুস ওড়ানোর মারাত্মক বিপদের দিকটিও তুলে ধরেছে প্রশাসন। খোলা আকাশে ফানুস ওড়ালে যেকোনো মুহূর্তে বড় অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ফানুস বিক্রির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ফানুস না ওড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
উৎসবের আলোয় চারপাশ ঝলমল করে উঠলেও পরিবেশের ভারসাম্য এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এদিনের প্রশাসনের এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন মালদাবাসী।