বিয়েবাড়ির ভোজ খেতেই ভয়ংকর কাণ্ড! ৫০০ অতিথির মধ্যে শ’খানেক সোজা হাসপাতালে, শেষবেলার খাবারে কী ছিল?

বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হল আতঙ্কে। সুস্বাদু ভোজসভা সেরে বাড়ি ফেরার বদলে সোজা হাসপাতালে ছুটতে হলো নিমন্ত্রিতদের। বিয়েবাড়িতে খাবার খাওয়ার পর ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে প্রায় শ’খানেক অতিথি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের পূর্ব শহরতলির নাহুর এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছিল বিয়েবাড়িতে?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার শহরের পূর্ব শহরতলির নাহুরের একটি হলে (নালন্দা বুদ্ধ বিহার হল) একটি জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অতিথি যোগ দিয়েছিলেন। আনন্দ আয়োজনের মাঝেই ভোজের পর্ব মেটার পর পরই বিপত্তি ঘটে।
খবর অনুযায়ী, যাঁরা বিয়েবাড়িতে একটু শেষের দিকে খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদের শরীরেই খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলো সবচেয়ে দ্রুত ও তীব্রভাবে প্রকাশ পায়। বমি, পেটব্যথা ও অসুস্থতা বাড়তে থাকায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিয়েবাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একশো জন:
খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে মোট ১০০ জন অতিথি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ২২ জনকে মুলুন্দের আগরওয়াল হাসপাতালে, কয়েকজন শিশুকে মুলুন্দের কামগার হাসপাতালে এবং ৫ জনকে ভিখরোলির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বস্তির খবর এটুকুই যে, বর্তমানে সমস্ত রোগীর অবস্থাই স্থিতিশীল এবং তাঁরা চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।
এফডিএ-র তদন্ত ও ‘খারওয়াস’ মিষ্টি নিয়ে সন্দেহ:
ঘটনার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। খাদ্য সুরক্ষা ও ঔষধি প্রশাসন (FDA)-এর আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের ভোজের বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ঠিক কোন খাবারের জেরে এই বিষক্রিয়া ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পৌরসভার তরফে জানানো হয়েছে, অসুস্থ হওয়া অতিথিদের বেশিরভাগই নাকি মেনুতে থাকা ‘খারওয়াস’ (Kharvas – এক ধরণের বিশেষ ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি) খাওয়ার পরই তীব্র অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেছিলেন। ফলে ওই মিষ্টির মান বা তাতে ব্যবহৃত উপাদানে কোনো গলদ ছিল কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে, এই চরম অসতর্কতার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্যাটারিং সংস্থার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।