“আমি রাজ বলছি…” ফোন কলে পরিচালকের কন্ঠ শুনেই বিশ্বাস! কীভাবে ২ লাখ টাকার প্রতারণার শিকার হলেন উঠতি অভিনেতা?

সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে টলিউডে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার নামে বড়সড় আর্থিক প্রতারণার খবর সামনে এল। বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ও প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর নাম ও কন্ঠস্বর নকল করে এক উঠতি অভিনেতার কাছ থেকে দফায় দফায় ২ লাখ টাকারও বেশি হাতানোর অভিযোগ উঠল এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার শিকার শুভজিৎ ঘোষ দস্তিদার নামের এক যুবক ইতিমধ্যেই কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন।
কীভাবে ঘটল এই হাই-টেক জালিয়াতি?
অভিযোগকারী শুভজিৎ জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থার নামে নতুন ও নতুন মুখদের অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার একটি বিজ্ঞাপনী পোস্ট দেখতে পান তিনি। সেখানে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে জানানো হয় যে এটি খোদ রাজ চক্রবর্তীর নিজস্ব নম্বর। এরপর ওই নম্বরে ছবি ও বায়োডাটা পাঠানোর পর তাঁর কাছে একটি ফোন আসে।
ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে ‘রাজ চক্রবর্তী’ বলে পরিচয় দেন। শুভজিতের দাবি, ফোনের ওই ব্যক্তির গলার স্বর অবিকল রাজ চক্রবর্তীর মতো ছিল। এআই প্রযুক্তির (AI Voice Cloning) সাহায্যে রাজ চক্রবর্তীর কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে তৈরি করেই ওই প্রতারক তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল, যা তিনি প্রথমে ধরে উঠতে পারেননি। এমনকি যে সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে বিজ্ঞাপনী পোস্টটি করা হয়েছিল, সেটিও সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে পরবর্তীতে জানা যায়।
প্রোফাইল শুট ও ইতিহাসভিত্তিক ছবির প্রলোভন:
প্রতারক চক্রটি শুভজিতকে একটি ইতিহাসভিত্তিক মেগা প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেওয়ার টোপ দেয়। এরপর প্রজেক্টের প্রাথমিক ‘প্রোফাইল শুট’ এবং রেজিস্ট্রেশনের বাহানায় প্রথমে ৩০ হাজার টাকা, তারপর ৯২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এইভাবে বিভিন্ন অজুহাতে খেপে খেপে তাঁর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই জালিয়াতরা।
তদন্তে বাঁশদ্রোণী থানা ও সাইবার সেল:
টাকা দেওয়ার পর কাজের কোনো অগ্রগতি না দেখে এবং সন্দেহের বশে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে দ্রুত বাঁশদ্রোণী থানার দ্বারস্থ হন শুভজিৎ। তিনি পুলিশকে এই ধরনের সাইবার প্রতারণা অবিলম্বে বন্ধ করার ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আর্জি জানিয়েছেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেন হয়েছে এবং যে ফোন নম্বর থেকে কল করা হয়েছিল, তার কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) ও আইপি অ্যাড্রেস ধরে সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে জালিয়াতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। টলিউডের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্ক্যাম চক্র সক্রিয় হওয়ায় উদীয়মান অভিনেতাদের সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।