নিষেধাজ্ঞার মাঝেই দীপাবলিতে বিশেষ ছাড়! কখন ও কীভাবে বাজি পোড়ানো যাবে? আদালতের বড় নির্দেশ

আলোকের উৎসব দীপাবলির আগে দিল্লি ও এনসিআর (National Capital Region)-এর বাসিন্দাদের জন্য এক বড়সড় স্বস্তির খবর দিল দেশের শীর্ষ আদালত। দিল্লি-এনসিআরে চরম বায়ুদূষণের কথা মাথায় রেখে বাজির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বহাল থাকলেও, উৎসবের আমেজ ও ঐতিহ্যের সুরক্ষায় শর্তসাপেক্ষে দুই দিনের জন্য প্রত্যয়িত ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ বা পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আগামী ৯ই নভেম্বর থেকে ফের পুরো অঞ্চলজুড়ে আতশবাজির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল করা হবে।
বাজি পোড়ানোর নির্দিষ্ট সময় ও দিন
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৭ই এবং ৮ই নভেম্বর কেবল সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব আতশবাজি বিক্রি ও ব্যবহার করা যাবে।
বাজি পোড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
-
সকালের সময়: সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
-
রাতের সময়: রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
এর বাইরে হাসপাতাল, নার্সিং হোম, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঘোষিত নীরব অঞ্চল বা ‘সাইলেন্ট জোন’-এর ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিক্রি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বিধিনিষেধ
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ বা ঐতিহ্যবাহী বাজি, বেরিয়ামযুক্ত বাজি এবং সুতার বাজি তৈরি ও বিক্রি করা যাবে না।
১. অনলাইন বিক্রি বন্ধ: অনলাইনে কোনোভাবেই বাজি বিক্রি করা যাবে না। ৪ঠা নভেম্বর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকার-নির্ধারিত স্থানেই বাজি বিক্রির অনুমতি থাকবে।
২. কিউআর কোড বাধ্যতামূলক: সিএসআইআর-এনইইআরআই (CSIR-NEERI) সনদপ্রাপ্ত এবং পিইএসও (PESO) অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজিই কেবল উৎপাদন ও বিক্রি করা যাবে। প্রতিটি বাজির প্যাকেটে একটি করে কিউআর (QR) কোড থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে প্রস্তুতকারক ও পরীক্ষার সনদ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
৩. লাইসেন্স বাতিল: এই সব নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাঁদের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বায়ুর গুণমান ও স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি
উৎসবের মরসুমে বায়ুদূষণের মাত্রা মাপতে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডগুলিকে ২ই নভেম্বর থেকে ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত বায়ুর গুণমান পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দীপাবলির পর বায়ুদূষণজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করে আগামী ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ১৬ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
কী এই ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ বা পরিবেশবান্ধব বাজি?
পরিবেশবান্ধব আতশবাজি প্রচলিত বাজির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দূষণ তৈরি করে। এতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা রাসায়নিকের উপাদান সীমিত রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, গ্রিন ক্র্যাকার্সও কিছুটা হলেও বাতাস দূষিত করে, তাই ছাড় থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনেই এগুলো ফোটানো বাধ্যতামূলক।