২০০ কিমি স্পিডের ভিডিও উধাও! বিচারক-পুত্রকে বাঁচাতে পুলিশের যোগসাজশ? নড়েচড়ে বসল ক্রাইম ব্রাঞ্চ

চালক একজন ১৭ বছরের নাবালক, আর তাঁর হাতে ছিল দ্রুতগামী মার্সিডিজ-বেঞ্জ। সেই বিলাসবহুল বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হলো এক স্কুটার আরোহীর। কেরালার কোচির এই হাড়হিম করা দুর্ঘটনার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক দানা বাঁধছে। এবার অভিযোগের তির খোদ অভিযুক্তের বাবার দিকে, যিনি পেশায় একজন অতিরিক্ত জেলা বিচারক। নিজের অপরাধী ছেলেকে বাঁচাতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে, যার ভিত্তিতে নতুন করে দায়ের হয়েছে মামলা।
ভোররাতের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
গত ২৫ অক্টোবর ভোররাত আনুমানিক ২টো ২০ মিনিট নাগাদ কোচির চেরানাল্লুরের কন্টেনার রোডে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত জেলা বিচারকের ১৭ বছরের ছেলে প্রচণ্ড গতিতে মার্সিডিজ চালিয়ে পিছন থেকে একটি স্কুটারে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৫ বছর বয়সী জয়বালকৃষ্ণন, যিনি স্থানীয় রাস্তার ধারে একটি খাবারের দোকান চালাতেন। সিসিটিভি ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৪ কিলোমিটার।
প্রমাণ নষ্টের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিচারকের বিরুদ্ধে
মৃতের পরিবার ও তাঁর মেয়ে ভদ্রকীর্তির চাঞ্চল্যকর দাবি, দুর্ঘটনার পর থেকে মামলার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার জন্য অভিযুক্তের বিচারক বাবা নিজে দুর্ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন। এই প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রবিবার নতুন একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, দুর্ঘটনার ঠিক পর থানায় পৌঁছালে অভিযুক্ত কিশোরের ছবি তুলেছিলেন মৃতের পরিবারের এক আত্মীয়। কিন্তু অভিযোগ, বিচারকের সরাসরি নির্দেশে এক পুলিশকর্মী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই মোবাইল থেকে সমস্ত ছবি জোরপূর্বক মুছে দেন। ইতিমধ্যেই থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় আইনে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড কিংবা জরিমানা অথবা উভয় সাজাই হতে পারে।
উধাও ইনস্টাগ্রামের ২০০ কিমি স্পিডের ভিডিও
দুর্ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কিশোরের সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দাবি করা হচ্ছে, ছেলেটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে মার্সিডিজ চালানোর একাধিক বেপরোয়া ভিডিও পোস্ট করা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই সেই সব ভিডিও উধাও হয়ে যায় এবং অ্যাকাউন্টটি প্রাইভেট করে দেওয়া হয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে কেবল চালক একা ছিল না, তার সঙ্গে আরও তিনজন সঙ্গী ছিল, যারা দুর্ঘটনার পরপরই চম্পট দেয়।
পুলিশের গাফিলতি ও আইনি পদক্ষেপ
যদিও বিচারক দাবি করেছেন যে ছেলে তাঁর অজান্তে ও অলক্ষে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল। আপাতত কেরালা হাইকোর্ট অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারি থেকে সাময়িক রক্ষাকবচ প্রদান করেছে।
অন্যদিকে, গোটা ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে আড়াল করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং পুরো তদন্তভার কোচি পুলিশের হাত থেকে সরিয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মৃতের পরিবার এখন অভিযুক্তের জামিন বাতিল ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে।