‘আরশোলা, ছারপোকা ও টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে সাবধান!’ বিরোধীদের বিঁধে হুঙ্কার শুভেন্দুর

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিরোধী জোটের ধারাবাহিক আন্দোলন ও বিক্ষোভের পাল্টা জবাব দিতে এবার দেশজুড়ে পথে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিরোধীদের ‘মিথ্যাচার ও অরাজকতা’র বিরুদ্ধে সরব হতে কেন্দ্র ও রাজ্যজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই সোমবার কলকাতার রাজপথে আয়োজিত হলো এক বিশাল মহামিছিল।

সকালে মধ্য কলকাতার ঐতিহাসিক কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া এই মহামিছিল শেষ হয় ধর্মতলায়। মিছিলে জাতীয় পতাকা হাতে বিজেপি সমর্থকদের জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলে বিজেপি নেতৃত্বের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

‘আরশোলা, ছারপোকা থেকে সাবধান!’— বিরোধী জোটকে তোপ শুভেন্দুর

মিছিল শেষে ধর্মতলার জনসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের একযোগে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতি ঢাকতে এবং নিজেদের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে বিরোধীরা একত্রিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য, জেলে যাওয়া আটকাবে বলে, পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে আর তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যারা এক হয়েছে, তাদের স্পষ্ট বলে রাখি— ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষের রায় পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে।”

শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “আমাদের কাছে SIR মানে— ‘অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও’। কিন্তু এরা দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে। দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী ও ভ্রষ্টাচারীদের মূল উৎপাটন করতে হবে।” উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “সবাই আরশোলা, ছারপোকা এবং টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে অত্যন্ত সাবধানে থাকবেন।” সেই সঙ্গে আগামী দিনে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনে বিরোধী শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে সাফ করে দেওয়ার হুঙ্কার দেন তিনি।

‘রামলীলা ময়দানে চোখের জল ফেলে লাভ নেই’— আক্রমণ নিতিন নবীনের

সমাবেশ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেন, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অরাজকতার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “দিদি ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছেন এবং সেই সঙ্গেই বাংলা থেকে অরাজকতার নাম-নিশানও মুছে গিয়েছে। তবুও এখনও কিছু লোক রয়ে গিয়েছেন, যারা দিল্লির রামলীলা ময়দানে গিয়ে হারের নিরাশায় চোখের জল ফেলেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সচেতন মানুষ যেমন ব্যালটে জবাব দিয়েছে, ঠিক একইভাবে এ বার পুরো দেশের মানুষও বিরোধীদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *