‘ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখান,’ হুমায়ুনের হাতিয়ার সেই ‘বাবরি’ই, দিলেন হুঙ্কার

রবিবার এক প্রকাশ্য জনসভা থেকে রাজ্য প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ দাবি, আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙার মসজিদ চত্বরে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের বিশাল জমায়েত হবে। শুধু তাই নয়, রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখারও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এদিন সভা থেকে কড়া ভাষায় হুমায়ুন বলেন, ‘বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে পুলিশ প্রশাসন আটকে দেখাক। এক মাস পাঁচ দিন পরে আমি আবার ঘোষণা করলাম, মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবেন। ওই দিন আবার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, রেজিনগর থেকে বহরমপুর ৩০ কিলোমিটার আমার কবজায় থাকবে।’

প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের

রবিবার বেলডাঙায় একটি সভা থেকে আগামী ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, ওই দিন শুধু স্থানীয় এলাকাই নয়, বরং কৃষ্ণনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া এবং বর্ধমানের মতো বিভিন্ন দূরবর্তী প্রান্ত থেকেও বহু মানুষ মুর্শিদাবাদে এসে এই জমায়েতে যোগ দেবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বাবরি মসজিদ নিয়ে বিশাল পরিকল্পনা

হুমায়ুন কবীরের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করে তৈরি করা হচ্ছে এই সুদৃশ্য দোতলা মসজিদটি। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। পাশাপাশি, মসজিদ চত্বরে আরও ২০ হাজার মানুষের একসঙ্গে প্রার্থনার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকেই বেছে নিয়ে বেলডাঙায় এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হুমায়ুন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এর আগেও রাজ্য রাজনীতি কম উত্তপ্ত হয়নি।

৬ ডিসেম্বরই কেন বেছে নেওয়া হলো?

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দিনটিকে ঘিরে বরাবরই ধর্মীয় আবেগ এবং তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক জড়িয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের এই কর্মসূচি যে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের কাছে এক বিরাট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *