“ঘরে গিয়ে দেখবি চল!” ছেলেকে দুধে পাঠিয়েই স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন, অস্ট্রেলিয়ার পরিয়ার্টায় ভয়ঙ্কর ঘটনা

স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন, করছেন বিশ্বাসঘাতকতা—বেশ কিছু দিন ধরেই মনে এমন সন্দেহ দানা বাঁধছিল স্বামীর। আর সেই গাঢ় সন্দেহের বশে ফাঁকা বাড়িতেই চরম ও নৃশংস প্রতিশোধ নিলেন ৫০ বছর বয়সি এক প্রবাসী। লুধিয়ানায় নিজের বাড়িতে স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মেরে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। ঘাতক স্বামীকে ইতিমধ্যেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ৪৯ বছর বয়সি গৃহবধূর নাম কমলদ্বীপ কৌর। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে তাঁর স্বামী রবিন্দর সিংকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পেশায় তিনি একজন পিকআপ ভ্যান চালক। শনিবার সন্ধ্যায় লুধিয়ানার বিকাশ নগরে তাঁদের নিজেদের বাড়িতেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

অস্ট্রেলিয়া সফর ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগেই অস্ট্রেলিয়ায় ছোট ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন এই দম্পতি। সেখান থেকে লুধিয়ানায় চার মাস আগে ফিরে এসেছিলেন কমলদ্বীপ কৌর। তবে তাঁর স্বামী রবিন্দর অস্ট্রেলিয়া থেকে লুধিয়ানায় ফেরেন মাত্র দু’দিন আগে, গত ২৯ অক্টোবর।

তাঁদের বড় ছেলে গগনদ্বীপ পুলিশকে জানান, অস্ট্রেলিয়া থেকে বাবা বাড়িতে ফেরার পর পরিবারে আপাতভাবে কোনো বড় অশান্তি বা ঝগড়াঝাঁটি চোখে পড়েনি।

ছেলেকে বাজারে পাঠিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: ঘটনার চরম মোড় আসে শনিবার সন্ধ্যায়। গগনদ্বীপ পুলিশকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাবা রবিন্দর হঠাৎ করেই তাঁকে দুধ কিনে আনার জন্য বাইরে বাজারে পাঠান। দোকান থেকে দুধ কিনে গগনদ্বীপ যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছান, তখন দেখেন তাঁর বাবা চরম আতঙ্কে হন্তদন্ত হয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। ছেলেকে দেখে যাওয়ার সময় রবিন্দর কেবল বলেন, “ঘরে ঢুকে সব কিছু খুঁটিয়ে দেখ।”

বাবার কথা শুনেই সন্দেহ হওয়ায় তড়িঘড়ি ঘরে ছোটেন গগনদ্বীপ। সেখানে ঢুকে দেখেন বিছানার পাশে চরম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মা কমলদ্বীপ। তাঁর শরীরের একাধিক অংশ ধারালো অস্ত্রের কোপে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে।

হাসপাতালে মৃত্যু ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান গগনদ্বীপ। তবে সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা কমলদ্বীপকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রান্নাঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে স্ত্রীর ওপর তাণ্ডব চালান রবিন্দর। স্ত্রীকে খুনের পর সেই রক্তমাখা ছুরিটি জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশে রান্নাঘরেই রেখে পালিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ঘাতক স্বামী রবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কীভাবে এবং কেন এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো, তা নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *