নিজের হাসপাতালে স্থান হলো না ডিরেক্টরের! অসুস্থ হতেই ‘এইমস’ থেকে রেফার বেসরকারী নার্সিংহোমে, তোলপাড় দেশ

সরকারি নামী হাসপাতালের দৈন্যদশা এবার খোদ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধানের চিকিৎসাতেই প্রকাশ্যে চলে এলো! গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘এইমস’ (AIIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল খোদ সেই হাসপাতালেরই এগজেকিউটিভ ডিরেক্টরকে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে নিজের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালেই মেলেনি প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা। বাধ্য হয়ে তাঁকেই রেফার করে দেওয়া হলো একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে!

উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর এইমস (AIIMS Gorakhpur)-এর এই নজিরবিহীন ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চরম শোরগোল। খোদ ডিরেক্টরকে প্রাইভেট হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য এইমসের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামো ঠিক কতটা বিশ্বস্ত—তা নিয়ে উঠছে বড়সর প্রশ্নচিহ্ন।

হৃদরোগে আক্রান্ত ডিরেক্টর, মিলল না ক্যাথ ল্যাব সেবা

জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়া ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিক হলেন গোরক্ষপুর এইমসের এগজেকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিভা দত্ত। গত দু’দিন আগে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে তড়িঘড়ি গোরক্ষপুর এইমসের ইমার্জেন্সি বা জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, তাঁর হৃদযন্ত্রের বিশেষ চিকিৎসা এবং পেসমেকার বসানোর জরুরি প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা সাময়িক স্থিতিশীল করা হলেও, কার্ডিয়াক বা হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানান্তরিত (রেফার) করা হয় শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে।

দীর্ঘদিন ধরে বিকল পরিষেবা! ডিরেক্টরের ঘটনায় ফাঁস আসল সত্যি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোরক্ষপুর এইমসের এক সিনিয়র চিকিৎসক ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, হাসপাতালে হৃদরোগের মূল ভিত্তি অর্থাৎ ‘ক্যাথ ল্যাব’ (Cath Lab) দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ বা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতদিন সাধারণ রোগীরা পরিষেবা না পেয়ে ফিরে গেলেও বিষয়টি ধামাচাপা পড়েছিল। কিন্তু এবার স্বয়ং ডিরেক্টর নিজে হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে রেফার হওয়ায় থলের বিড়াল হাটে হাটে বেরিয়ে পড়েছে।

ঘটনায় অস্বস্তি বাড়তেই এইমস কর্তৃপক্ষের তরফে একটি সাফাই বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, “আমাদের ক্যাথ ল্যাবের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছালেই খুব দ্রুত পরিষেবা চালু করে দেওয়া হবে।”

প্রশ্নের মুখে কোটি কোটি টাকার এইমস প্রকল্প

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে গোরক্ষপুর এইমসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চালু হয় আউট পেসেন্ট বিভাগ (OPD)। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর পুরো ইনস্টিটিউট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ঘোষণা করা হয়। তবে চালুর এত বছর পরও একজন ইমার্জেন্সি হৃদরোগীকে পরিষেবা দিতে না পারা এবং খোদ ডিরেক্টরকে প্রাইভেটে রেফার করার ঘটনায় চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্র পরিচালিত এই কোটি কোটি টাকার স্বাস্থ্য প্রকল্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *