ফ্রিজ বা বাইক থাকলেও মিলবে পাকা বাড়ি! প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনায় ৩টি বড় নিয়মে ছাড় দিল কেন্দ্র!

গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র পরিবারের মাথার ওপর পাকা ছাদ সুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G) প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনল মোদী সরকার। যোগ্যতার পুরোনো ও কড়া মানদণ্ড শিথিল করে তিনটি নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই সিদ্ধান্তের ফলে এতদিন যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ত, তাঁরাও এখন থেকে পাবেন কেন্দ্রীয় অনুদানের ঘর।

একই সাথে রাজস্থানের বারানে আয়োজিত এক রাজ্য-স্তরের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মার হাতে ২,৮৯,৩৫৫টি স্থায়ী বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে ৩,৪৭৩ কোটি টাকার অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করেন শিবরাজ সিং চৌহান।

আবাস যোজনার নিয়মে ৩টি বড় বদল: কারা পাবেন সুবিধা?
১. দু-চাকার গাড়ি বা বোট থাকলেও নাম কাটা যাবে না
পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের কারও নামে মোটরচালিত দু-চাকার গাড়ি (বাইক বা স্কুটার) থাকলে তাঁরা প্রকল্পের অযোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। নতুন সংশোধনীতে এই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পরিবারে বাইক, স্কুটার কিংবা মোটরচালিত মাছ ধরার নৌকা থাকলেও স্থায়ী বাড়ির আবেদন করা যাবে।

২. আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বেড়ে হলো ১৫,০০০ টাকা

আগে যে পরিবারের কোনো সদস্যের মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি ছিল, তাঁরা আর্থিক সচ্ছলতার অজুহাতে তালিকা থেকে বাদ পড়তেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আয়ের এই সীমা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, মাসে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা পরিবারগুলোও এখন সরকারি ঘর পাওয়ার সুযোগ পাবে।
৩. ফ্রিজ থাকলেও ঘরের অনুমোদন মিলবে

বাড়িতে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ থাকা মানেই সচ্ছল পরিবার— এই পুরোনো ধারণা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান আধুনিক যুগে ফ্রিজ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস হওয়ায়, ঘরে ফ্রিজ থাকলেও আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

২৯ লক্ষেরও বেশি পরিবারের নতুন সমীক্ষা, কড়া বার্তা মন্ত্রীর
রাজস্থানে ইতিমধ্যেই ২৯,১৩,৭৪৯ জন নতুন সম্ভাব্য সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করতে সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সরাসরি সরজমিনে যাচাইয়ের পরেই ঘর দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পঞ্চায়েত ও জেলা স্তরে প্রকাশ্যে তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, যাতে কোনো যোগ্য পরিবার অন্যায্যভাবে বাদ না পড়ে এবং আপত্তি থাকলে তা শোনানো যায়।

পঞ্চায়েতেই ঠিক হবে গ্রামের উন্নয়ন
শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট জানান, ‘বিকশিত ভারত-জি রাম জি’ প্রকল্পের অধীনে গ্রামে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং আগামী দিনে প্রতিটি পঞ্চায়েত বছরে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাজেট পেতে পারে। উন্নয়নমূলক কাজের সিদ্ধান্ত জয়পুর বা দিল্লি থেকে চাপিয়ে দেওয়া হবে না, পঞ্চায়েত স্তরের স্থানীয় মানুষই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁদের গ্রামের কোথায় কী কাজ প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *