নৌসেনার শক্তি বাড়াতে ৫৩,৮৬৬ কোটির মেগা চুক্তি! কলকাতায় তৈরি হবে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, বড় ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রকের!

ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) সামুদ্রিক শক্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। নৌসেনার জন্য আটটি অত্যাধুনিক ‘নেক্সট জেনারেশন করভেট’ (NGC) যুদ্ধজাহাজ তৈরির জন্য ৫৩ হাজার ৮৬৬.৫০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL)-এর সঙ্গে এই মেগা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কোন সংস্থাকে কটি জাহাজ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই আটটি উন্নত যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে কলকাতার স্বনামধন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা জিআরএসই (GRSE)। বাকি তিনটি জাহাজ তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL)।
এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও জাহাজ নির্মাণের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। কারণ, এই প্রথমবার নৌসেনা নিজেই এই জাহাজগুলির নকশা তৈরি করবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিপইয়ার্ডগুলি তা বাস্তবে রূপায়ণ করবে।
কী বিশেষত্ব থাকবে এই নেক্সট জেনারেশন করভেট যুদ্ধজাহাজগুলির?
নতুন প্রজন্মের এই করভেটগুলি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত থাকবে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
ত্রিমুখী আক্রমণ ক্ষমতা: আকাশ, জল এবং জলের নিচে— তিন জায়গাতেই সমানভাবে আক্রমণ ও শত্রুকে নিমিষে প্রতিহত করতে সক্ষম।
বাণিজ্যিক সুরক্ষা: সমুদ্রপথে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের রুটগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।
অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধ: জলমগ্ন শত্রুর সাবমেরিন ধ্বংস ও অ্যান্টি-সারফেস যুদ্ধে বিশেষ পারদর্শী।
উপকূলীয় নিরাপত্তা: দেশের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষিত রাখা এবং লিটরাল কমব্যাট অপারেশন পরিচালনা করা এর মাধ্যমে সহজ হবে।
কর্মসংস্থান ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার মেগা সুযোগ
এই প্রজেক্টটি ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এক বিরাট অর্থনৈতিক জোয়ার আনবে। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বেসরকারি শিপইয়ার্ড এবং দেশের লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা MSME-গুলির পারস্পরিক সহযোগিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ দেশজুড়ে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে:
শিপইয়ার্ডগুলিতে: প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবসের কর্মসংস্থান।
সহযোগী শিল্প ও এমএসএমই গুলিতে: প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবসের নতুন কাজের সুযোগ।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক্স (টুইটার)-এ পোস্ট করে এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ সামগ্রীর ওপর জোর দিয়ে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যেই এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।