অবসরের পর প্রতি মাসে ৬০,০০০ টাকা পেলেও চরম বিপদ? ১৫ বছর পরের মারাত্মক সত্য জেনে আঁতকে উঠবেন!

অবসর নেওয়ার পর সবার প্রথম মাথায় আসে— জমানো টাকা থেকে প্রতি মাসে কত আয় আসবে? এই নিশ্চিন্তের জন্য অনেকেই চোখ বন্ধ করে মিউচুয়াল ফান্ডের ‘সিস্টেমেটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান’ (SWP)-এর পথ বেছে নেন। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আজ ৬০ বছর বয়সে যে টাকা দিয়ে আপনার সংসার সুন্দরভাবে চলছে, ৭৫ বা ৮০ বছর বয়সে পৌঁছে সেই একই টাকায় আদৌ চলা সম্ভব হবে কি?
ওয়াইজ ফিনসার্ভ (Wise Finserv)-এর গ্রুপ সিইও এবং সিআইও অজয় কুমার যাদবের মতে, কেবল নির্দিষ্ট অঙ্কের SWP-এর ওপর ভরসা করে বসে থাকলে অবসর জীবনে বড়সড় আর্থিক সংকটে পড়তে হতে পারে।
মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে কমিয়ে দিচ্ছে আপনার টাকার আসল ক্ষমতা?
সময়ের সাথে সাথে চাল-ডাল, বিদ্যুতের বিল থেকে শুরু করে চিকিৎসা খরচ— সবই বাড়ে। ধরা যাক, প্রতি বছর মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি গড়ে ৬% হারে হচ্ছে। আপনি যদি ৬০ বছর বয়সে প্রতি মাসে ৬০,০০০ টাকা পেনশনের মতো তুলবেন বলে ঠিক করেন, তবে ভবিষ্যতে কী দাঁড়াবে তার একটি হিসেব দেখে নিন:
(নোট: ৬% বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক গণনা।)
অর্থাত্ সহজ কথায়: আজ ৬০ বছর বয়সের ৬০,০০০ টাকার কেনাকাটার ক্ষমতা, ৮০ বছর বয়সে গিয়ে আজকের মাত্র ১৮,৭০৯ টাকার সমান হয়ে যাবে! অর্থাৎ একই জীবনযাত্রা বজায় রাখতে তখন আপনার মাসে দরকার হবে প্রায় ১.৯২ লাখ টাকা।
তা হলে উপায় কি কেবল প্রতি বছর উইথড্রয়াল বাড়ানো?
একবারে ঢালাওভাবে প্রতি বছর ৬% করে টাকা তোলা বাড়িয়ে দেওয়াটাও বিপজ্জনক। অবসর জীবনের শুরুতে যদি শেয়ার বাজার পড়ে যায় এবং আপনি বেশি টাকা তুলতে থাকেন, তবে ফান্ডের মূলধন একলপ্তে অনেকটা কমে যেতে পারে। ফলে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও আপনার পোর্টফোলিও আর আগের জায়গায় ফিরবে না। কারণ SWP কোনো সুনিশ্চিত রিটার্নের গ্যারান্টিযুক্ত প্রোডাক্ট নয়, এটা আপনার নিজের জমানো টাকা থেকেই উঠছে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন? ‘৩-বালতি’ (3-Bucket) স্ট্র্যাটেজি!
অজয় কুমার যাদব এই সমস্যা সমাধানের জন্য অবসরকালীন তহবিলকে ৩টি ভাগে বা ‘বালতিতে’ ভাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন:
-
১. নিয়মিত আয়ের বালতি (Regular Income Bucket): এই টাকায় অতি-সুরক্ষিত স্কিম যেমন— Senior Citizen Savings Scheme (SCSS), সরকারি বন্ড, আরবিআই ফ্লোটিং রেট বন্ড বা অ্যানুইটি স্কিমে বিনিয়োগ করুন। এর মূল লক্ষ্য বেশি লাভ করা নয়, বরং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ও নিরাপদ আয় নিশ্চিত করা।
-
২. সাপোর্ট বা সহায়ক বালতি (Support Bucket): এখানে মাল্টি-অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড বা ব্যালেন্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ডের মতো হাইব্রিড ফান্ড থাকবে। যদি কখনো শেয়ার বাজার খুব খারাপ থাকে, তখন প্রথম ও দ্বিতীয় বালতি থেকেই প্রয়োজনীয় খরচের টাকা তোলা হবে।
-
৩. গ্রোথ বা বৃদ্ধির বালতি (Growth Bucket): এই ফান্ডটি থাকবে মূলত লার্জ-ক্যাপ ও ফ্লেক্সি-ক্যাপ ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে। দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধির দানবকে হারাতে এই অংশটিই আপনার মূলধনকে বাড়তে সাহায্য করবে।
পোর্টফোলিওতে নজর রাখা জরুরি
এই ৩-বালতির স্ট্র্যাটেজি কিন্তু ‘একবার বানিয়ে ভুলে যাওয়ার’ বিষয় নয়। যখনই শেয়ার বাজার ভালো ফল করবে, তখন ‘গ্রোথ বাকেটের’ কিছু লাভ তুলে ‘সুরক্ষিত বাকেটে’ সরিয়ে রাখতে হবে। আবার বাজার খারাপ থাকলে ইক্যুইটি থেকে টাকা না তুলে সুরক্ষিত অংশ থেকে খরচ চালাতে হবে।
শেষ কথা: অবসর জীবনে কেবল প্রতি মাসে স্থির একটি অঙ্ক পাওয়ার চেয়ে, বাজার ও মূল্যবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক স্ট্র্যাটেজিতে টাকা তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ। লক্ষ্য শুধু প্রতি মাসে টাকা পাওয়া নয়, লক্ষ্য হলো জীবনসায়াহ্নে পৌঁছেও যেন টাকার অভাবে কাঙাল হতে না হয়!
(ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি কেবল সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হলো। কোনো শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা স্কিমে বিনিয়োগের আগে নিবন্ধিত আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)