রামলীলা ময়দানে ধুন্ধুমার! মঞ্চে উঠেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, চরম হুঁশিয়ারি কংগ্রেস সভাপতির!

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের এক অন্য রূপ সামনে এলো। জনসভার হট্টগোল ও অনিয়ন্ত্রিত শ্লোগানে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সমর্থকদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কেন্দ্র করে করা তাঁর মন্তব্যে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
মঞ্চে উঠেই ৩০ সেকেন্ড নীরবতা, তারপরই কড়া হুঁশিয়ারি
রবিবার রামলীলা ময়দানের সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই প্রায় ৩০ সেকেন্ড একরাশ অসন্তোষ নিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন খাড়গে। চারিদিকে তখন সমর্থকদের স্লোগান, চিৎকার ও বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ। উচ্চ শব্দে বিরক্ত হয়ে মাইক হাতে নিয়ে হিন্দি ভাষায় খাড়গে স্পষ্ট জানিয়ে দেন— “আপনারা যদি শান্ত হয়ে বসেন, তবে আমি মাত্র ৫ মিনিটে বক্তব্য শেষ করব। আর যদি শান্ত না হন, তবে টানা ১ ঘণ্টা ভাষণ দিয়ে যাব।” কংগ্রেস সভাপতির এই কড়া বার্তার পর মুহূর্তের মধ্যে শান্ত হয়ে যায় পুরো ময়দান।
বিতর্কিত স্লোগান ও খাড়গের সুকৌশলী অবস্থান
জনসভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মূল দাবি ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। তবে এর মাঝেই একদল সমর্থক অতি-উৎসাহী হয়ে চেঁচাতে শুরু করে, “মোদী কা বাপ ভি জায়েগা” (মোদীর বাবাও যাবেন)। কিছুদিন আগেই বিহারের পাটনায় এক অনুষ্ঠানে এই একই মন্তব্য করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খাড়গে।
তবে রবিবারের সভায় বুদ্ধিদীপ্তভাবে সেই বিতর্কিত শব্দগুলো এড়িয়ে যান তিনি। খাড়গে বলেন, “মোদী যাবেন, তবেই দেশে গণতন্ত্র বাঁচবে।”
কী ঘটেছিল পাটনার সেই বিতর্কিত ঘটনায়?
পাটনার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এক শ্রোতার কথায় উত্তেজিত হয়ে খাড়গে ৩ বার বলেছিলেন “মোদী কা বাপ ভি জায়েগা”। যদিও পরে সন্তোষ কুমার নামের ওই শ্রোতা জানান, তাঁর বক্তব্য পুরোটা শোনা হয়নি; তিনি বলতে চেয়েছিলেন “জনগণ বিদ্রোহ না করলে মোদী যাবেন না”। এই মন্তব্যের জেরে সন্তোষ বাবুকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।
বিজেপির তীব্র প্রতিবাদ ও কংগ্রেসের সাফাই
খাড়গের মন্তব্য নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। কড়া জবাব হিসেবে বিজেপির তরফ থেকে পাল্টা স্লোগান দেওয়া হয়েছে— “মোদী কহি নেহি জায়েগা” (মোদী কোথাও যাবেন না)। বিজেপির দাবি, কংগ্রেস সভাপতিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, কংগ্রেস মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুত সভাপতির বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছেন, খাড়গে কেবল একটি প্রচলিত লোকগাথা বা বাকধারা ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদী অতীতে এর চেয়েও অনেক কটূ মন্তব্য করেছেন।