অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কি নভেম্বরে ঢুকবে? অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার দিনক্ষণ নিয়ে এল বড় আপডেট!

রাজ্যের জনপ্রিয় সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। গত জুন মাস থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে অক্টোবর মাসে পুজোর ঠিক আগে চতুর্থী ও পঞ্চমীর দিন উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছিল। তবে পুজোর সময় বহু মহিলা টাকা পেলেও, এখনও বহু উপভোক্তা এই আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

অক্টোবরে দেড় কোটিরও বেশি মহিলা টাকা পেলেও বঞ্চনার অভিযোগ
অক্টোবর মাসে এই প্রকল্পের আওতায় বাংলার দেড় কোটিরও বেশি মহিলা আর্থিক সহায়তা হাতে পেয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত বহু উপভোক্তা একবারও টাকা পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন। বঞ্চনার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই নানা মহলে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নভেম্বর মাসে ভাগ্য খুলবে বঞ্চিতদের? কবে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী কিস্তির টাকা?

সাধারণত প্রতি মাসেই ১৭ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে থাকে। অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা আগেই টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই ট্রেন্ড বজায় রেখে এবারেও মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর টাকা দেওয়া হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান। যদিও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

যাচাই প্রক্রিয়া ও কেওয়াইসি (KYC) নিয়ে প্রশাসনের কড়া নির্দেশ
এদিকে, গত মাস থেকেই রাজ্যে নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের যাচাই বা স্ক্রুটিনি শুরু করেছে প্রশাসন। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা অযোগ্য মহিলাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই কারণে সমস্ত উপভোক্তাদের অবিলম্বে ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি (KYC) এবং ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক ঠিকঠাক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কেউ যদি একসঙ্গে একাধিক সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে তার মধ্যে একটি ভাতা সারেন্ডার বা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় দুটি ভাতাই চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার বড় রকমের আশঙ্কা থেকে যায়।

সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের একটি সরকারি কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই যোজনা প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, পুজোর আগেই প্রায় সকলে টাকা পেয়ে গিয়েছেন। তবে কেবল অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত ভুলের কারণে প্রায় ৬,১৬৩ জনের টাকা আটকে রয়েছে। যাঁদের টাকা আটকে আছে, তাঁরা যাতে আগামী নভেম্বরেই অক্টোবরের বকেয়া কিস্তিসহ পুরো টাকা পেয়ে যান, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হচ্ছে যে, কোনো যোগ্য আবেদনকারীই বঞ্চিত হবেন না, কেবল ভুয়া বা অযোগ্য আবেদনকারীরাই এই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *