অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি! ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জন সহ মৃত ৬

অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে আনন্দ করে ফেরার পথেই এল এক মর্মান্তিক সংবাদ। গাড়ি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে পাঁচ জনই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের কুশিনগর জেলার হাটা কোতোয়ালি এলাকায়।

কীভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাপ্তানগঞ্জ থানা এলাকার ভালুহি গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবারটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গাড়ি করে আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়েছিল। রাত গভীর হওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের গাড়িটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভিতরে থাকা যাত্রীরা আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গাড়ির ভিতর থেকে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাঁদের গোরক্ষপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য ও হতাহতের পরিচয়
হাটা কোতোয়ালির স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ধর্মেন্দ্র সিং জানান, “তাঁরা একটি অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাঁদের গাড়িটির সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন এবং আরও দু’জন আহত হন। আহতদের গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত চলছে।”

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন— কানহাইয়া প্রসাদ (৪০), রামবিলাস (৬৫), রাম মিলন (৩৫), মৃদুল মিশ্র (৩৫), রঞ্জয় গুপ্ত (৩২) এবং মিথিলেশ গুপ্ত (২২)। এঁরা সবাই কুশিনগর জেলার বাসিন্দা। এছাড়া আরিয়ান (১৬) নামের এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে কুশিনগর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে ভালুহি গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয়জনদের এমন চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *