১২০ কিমি বেগে আসছে ভয়ঙ্কর ‘মুরাসু’! আছড়ে পড়ার আগেই বাংলা নিয়ে বিরাট আপডেট

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ভারতের পূর্ব উপকূলে দানা বাঁধছে আরও এক নতুন বিপদ। ভারতীয় মৌসম বিভাগ (IMD) এবং স্কাইমেট ওয়েদারের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে এখন একটি পূর্ণাঙ্গ এবং তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। অত্যন্ত দ্রুত গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলা এই ঝড়টি সরাসরি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মুরাসু বর্তমানে যে ফর্মে রয়েছে, তাতে এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি এর দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছে যেতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে বিশেষ করে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী ওঙ্গোল এলাকার কাছাকাছি এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হতে পারে। আজ মধ্যরাত থেকে আগামীকালের ভোরের মধ্যে স্থলভাগে এর মূল আঘাত হানার কথা রয়েছে।

বাংলার ওপর এর প্রভাব কতটা?

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরে পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে মিলেছে স্বস্তির খবর। এইমুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় ধরনের কোনো বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। এর সরাসরি কোনো ধ্বংসাত্মক প্রভাব বাংলায় পড়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তবে গত সপ্তাহের অর্নবের রেশ এবং এই নতুন ঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতা সহ রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস?

মুরাসু-র ল্যান্ডফলের প্রভাবে মঙ্গলবার এবং আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে যে জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেগুলি হলো:

  • কলকাতা

  • উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা

  • হাওড়া ও হুগলি

  • পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর

  • ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া

এরপর আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও এর আংশিক প্রভাব পড়তে পারে। ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তবে ৩ নভেম্বরের পর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বাকি অংশ জুড়েও শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে আসবে।

মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতার কারণে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে। আজ সকাল থেকেই সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়া ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটছে। সন্ধ্যার পর থেকে আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত এই গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *