‘২০১৪ থেকে নয়, ইতিহাস শুরু হয়নি বিজেপির হাত ধরে!’ রামলীলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদী-শাহ ও আরএসএসকে তুলোধোনা আইসা নেত্রীর!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে (Ramlila Maidan) বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের আয়োজিত মেগা সমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা। ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবিতে ডাকা এই বিশাল সমাবেশে উপস্থিত থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দেশের সংবিধান ও সমতার অধিকার হরণকারী শাসকরা ভারতকে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো চালাতে চাইছে, কিন্তু ইতিহাস তাদের সেই ভুল ধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দেবে।

‘বিজেপি ভাবছে তাদের শাসনকাল দিয়েই শেষ হবে দেশের ইতিহাস!’

এদিন রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্র সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করে নেহা বোরা বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক সমতার অধিকারকে যারা পিষে ফেলেছেন, তাঁরা হয়তো মনে করেছিলেন চিরকাল সংসদের আসনে টিকে থাকবেন।

ছাত্রনেত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“যাঁরা বলতেন যে ভারতের স্বাধীনতার প্রকৃত ভবিষ্যৎ নাকি ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে—শুধু তাই নয়, যাঁদের ধারণা ছিল ভারতের গৌরবময় ইতিহাস বুঝি বিজেপির শাসনকাল দিয়েই শেষ হয়ে যাবে—আজ এই রামলীলা ময়দানে আপনাদের এই বিশাল উপস্থিতিই চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দেশের ইতিহাসে অতীতেও আরএসএস বা বিজেপির কোনো স্থান ছিল না এবং ভবিষ্যতেও কখনো থাকবে না!”

উপস্থিত বিপুল ছাত্র-যুবসমাজ ও জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রের আসল ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সাধারণ মানুষই, কোনো একদলীয় শাসনতন্ত্র নয়।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে তুমুল তোলপাড়

উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ রাখা এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবিকে সামনে রেখেই এই মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

শুরু থেকেই আইসা নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিল যে, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক কাঠামোর সুরক্ষায় দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ বিরোধী জোটের পাশে থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে। রবিবারের রামলীলা ময়দানে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের এই ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত তারই প্রমাণ দিল। পাশাপাশি, এদিন সমাবেশে উপস্থিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তরুণ প্রজন্ম ও ‘জেন-জি’ (Gen-Z)-র এই ঐতিহাসিক আন্দোলনকে কুর্নিশ জানিয়ে দেশ বাঁচাতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের আহ্বান জানান।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *