নৈহাটির ঘাটে আজও জাগ্রত তারা ক্ষ্যাপার তারা মা! ২০০ বছর ধরে কেন কেবল তান্ত্রিক মতেই হয় দেবী আরাধনা?

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের অন্তর্গত নৈহাটিতে ইছামতি নদীর শান্ত ও মনোরম পাড়ে গড়ে উঠেছে এক ঐতিহাসিক অলৌকিক দেবস্থান। সাধক তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাচীন কালীমন্দিরকে কেন্দ্র করে আজও স্থানীয়দের ভক্তি ও শ্রদ্ধার পারদ তুঙ্গে। এই মন্দিরের মূল আকর্ষণ ও পরম পূজনীয় ধন হলো দেবীর হাজার বছরেরও প্রাচীন কষ্টিপাথরের এক অপরূপ কালীমূর্তি।
বিগত প্রায় ২০০ বছর ধরে নিয়ম-নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই মন্দিরে কালীপুজো পালিত হয়ে আসছে, যেখানে আজও নিখাদ তান্ত্রিক মতে দেবী কালিকার আরাধনা করা হয়।
ইছামতির চরে স্বপ্নাদেশ ও মূর্তির প্রতিষ্ঠার অবিশ্বাস্য ইতিহাস
মন্দির সেবায়েত ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, এই কষ্টিপাথরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে এক মহাজাগতিক ও অলৌকিক ইতিহাস।
-
স্বপ্নাদেশ ও প্রাপ্তি: কথিত আছে, সাধক তারা ক্ষ্যাপার সাধনক্ষেত্র ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই প্রাঙ্গণ। স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই ইছামতি নদীর তীরের বর্তমান স্থানে পরম ভক্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল হাজার বছরের প্রাচীন কষ্টিপাথরের এই মহামূল্যবান দেবীমূর্তি।
-
২০০ বছরের অটুট নিয়ম: যুগ পাল্টালেও পাল্টায়নি মন্দিরের পুজো-পদ্ধতি। ২০০ বছর আগে যেভাবে প্রাচীন তান্ত্রিক মতে দেবীর আবাহন ও পুজো করা হতো, আজও সেই কঠোর শাস্ত্রীয় বিধিবিধান মেনেই আয়োজিত হয় কালীপুজো।
ভক্তদের অটুট বিশ্বাস ও অগণিত মানুষের সমাগম
ইছামতির পাড়ে তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত এই জাগ্রত মন্দিরে কেবল স্থানীয় নৈহাটি বা বসিরহাট নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। ভক্তদের বিশ্বাস, এই হাজার বছরের প্রাচীন কষ্টিপাথরের কালীর কাছে সশ্রদ্ধ চিত্তে যা প্রার্থনা করা হয়, তা কখনোই বিফল হয় না।
ইতিহাস, অলৌকিক ঐতিহ্য এবং সাধক তারা ক্ষ্যাপার স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে ইছামতির তীরের এই প্রাচীন কালীপুজো আজও বঙ্গদেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় ও রহস্যময় ভক্তিপীঠ হিসেবে বিরাজ করছে।
বসিরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর ইতিহাস ও অলৌকিক কাহিনি আপনার কেমন লাগল? কমেন্ট করে জানান এবং আরও নতুন সংবাদের জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন!