“রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক ফেক!” বিগ বস থেকে বেরিয়েই বোমা ফাটালেন ভরত কল

দীর্ঘ প্রায় দু’মাসের দীর্ঘ সফর শেষ করে অবশেষে ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘর থেকে বিদায় নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ভরত কল। বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তাঁর এভাবে আচমকা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা। যাঁরা এতদিন তাঁর প্রতিটি চাল ও খেলা গভীর মনোযোগের সঙ্গে অনুসরণ করেছেন, তাঁদের কাছে এই বিদায় অত্যন্ত মন খারাপের। তবে শো থেকে বেরিয়েই একেবারে খোলামেলা মেজাজে ধরা দিলেন ভরত। এক সাক্ষাৎকারে বিগ বস ঘরের অন্দরের গোপন সমীকরণ, সহ-প্রতিযোগীদের মুখোশ এবং নিজের খেলা নিয়ে একরাশ বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন তিনি।

“আমি কোনো সেফ গেম খেলেনি, বরং সবচেয়ে আনসেফ ছিলাম”

গত দু’মাস ধরে ভরত কলকে কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের ছত্রছায়ায় দেখা যায়নি, যা নিয়ে দর্শকদের মনে প্রশ্ন ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ‘সেফ গেম’ খেলার অভিযোগ উঠলেও অভিনেতা সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কখনোই দলগত রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।

ভরতের কথায়, “উল্টোটাই সত্যি। আমি যদি গ্রুপ তৈরি করে খেলতাম, তবে ৭-৮ জন আমার পাশে থাকত। মনামীকে যখন ক্যাপ্টেনসি টাস্কে ভোটে হারালাম, তখন আমার গ্রুপ বানানো অত্যন্ত সহজ ছিল। কিন্তু আমি তা করিনি। আমি কোনোদিন ঝিলম-দুর্নিবারের গ্রুপে যাইনি, আবার জিতু-রাজবীর-নন্দিনীদের দলেও ভিড়িনি। যতদিন আমার ভাগ্য ও দর্শকের আশীর্বাদ ছিল, আমি ততদিন থেকেছি। এই বয়সে এসে মেয়েদের সম্মান করা বা কাউকে অশ্রদ্ধা না করা যদি ‘সেফ গেম’ হয়, তবে আমি আবারও সেটাই খেলব।”

৫৭ বছর বয়সে বিগ বস! আক্ষেপ ভরত কলের

অভিনেতার মতে, এই রিয়েলিটি শো মূলত একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মানানসই। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৪০-৪২ বছর বয়সের ভরত কল যদি এই সুযোগ পেত, তবে অন্য রূপ দেখা যেত, যা অনেকের হয়তো পছন্দ হতো না। তবে ৫৭ বছর বয়সে এই খেলা মানায় না বলেই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। তবুও স্টার জলসা এই বয়সে আমাকে যে সুযোগ দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ৫৬ দিন ঘরে কাটিয়ে কিছুটা হলেও দর্শকদের বিচারে আমি সফল।”

রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক কি নেহাতই ‘ফেক’?

ঘরের মধ্যে জুটি হিসেবে সবচেয়ে বেশি চর্চায় থাকা রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন ভরত। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই সম্পর্ক বাড়ির বাইরে কতটা টিকবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর মতে, “বাইরে এসে ওদের নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। আপাতত এই সম্পর্ক আমাদের কাছে ফেক বলেই মনে হচ্ছে।”

তবে তাঁদের কিছু আচরণ নিয়ে সহ-প্রতিযোগী সৌরভের করা ‘অশালীন’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ভরত। তিনি বলেন, “আমি সময়ের সঙ্গে নিজেকে আপগ্রেড করেছি, তাই আমার চোখে এটি অশালীন মনে হয়নি। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। বিশেষ করে নন্দিনীর মা-বাবাও যখন এই আচরণকে সমর্থন করছেন, তখন আমাদের বিচার করার কোনো অধিকার নেই।”

কে বা কারা বিগ বসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী?

ঘরের বর্তমান প্রতিযোগীদের মধ্যে সোনামণি, জিতু, দুর্নিবার এবং রাজবীরকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভরত। একই সঙ্গে তিনি দলের বাইরে থাকা নিরঞ্জন মণ্ডলকে এই শো-এর ‘ডার্ক হর্স’ বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, জিতু কমলের মধ্যে অ্যাঙ্গার ইস্যু রয়েছে বলে স্বীকার করলেও জিতু যে সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য আপ্রাণ লড়ছেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। সৃজলা ও জিতুর মধ্যে ভালো বন্ধুত্বের বন্ডিং রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কঠিন পরিবেশ ও আগামী পরিকল্পনা

বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, কনকনে ঠান্ডা এসি রুম এবং সীমিত প্রোটিনযুক্ত খাবারের মধ্যে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ভরত জানান, এই মানসিক চাপের কারণেই ছোটখাটো বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে আসে। এই মানসিক লড়াই পেরিয়ে তিনি নিজেই রাজবীর, তনুশ্রী ও সৃজলাকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন, বিশেষ করে তাঁর প্রতি রাজবীরের কৃতজ্ঞতাবোধের কথা স্মরণ করে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে সোনামণি, জিতু বা দুর্নিবারের মধ্যে কাউকেই বিজয়ী হিসেবে দেখতে চান তিনি।

শো থেকে বেরিয়ে আপাতত চোখের একটি অস্ত্রোপচার এবং কিছু ব্যক্তিগত কাজ মিটিয়েই খুব শীঘ্রই নতুন উদ্যমে অভিনয়ের চেনা ছন্দে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *