‘মহাগুরু’র দাপট! টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বাইরে চেয়ার নিয়ে কেন বসে মিঠুন? শোরগোল স্টুডিওপাড়ায়!

বিগত কয়েক বছর ধরে বিতর্ক, শ্যুটিং বন্ধের হুঁশিয়ারি এবং টেকনিশিয়ানদের অচলাবস্থায় বারবার উত্তাল হয়েছে টলিউড। অভিযোগ উঠেছিল স্বজনপোষণ ও একনায়কতন্ত্রের। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর অবশেষে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির হাল শক্ত হাতে ধরেছে বর্তমান সরকার। সেই ধারায় টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে শনিবারে শুরু হলো এক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া—মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২৩টি গিল্ডের দু’দিনব্যাপী নির্বাচন।
টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বাইরে কড়া নজরদারিতে মিঠুন
৩১ অক্টোবর, শনিবার সকাল থেকেই টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ছিল টানটান উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিতর্কের আবহ কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে এই দু’দিন ব্যাপী ভোটযুদ্ধের আয়োজন করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ যাতে শতভাগ সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক উপায়ে হয়, তার জন্য সকাল থেকেই স্টুডিওর বাইরে চেয়ার নিয়ে বসে কড়া নজরদারি চালাতে দেখা যায় রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তীকে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট জানান, “ভোটার ছাড়া অন্য কেউ যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে, তার জন্য আমি নিজেই বাইরে বসে তদারকি করছি। এতদিন টলিউডে একনায়কতন্ত্র চলছিল, যার ফলে অনেকেই কাজ করতে পারছিলেন না। তবে এই নির্বাচনের পর টলিপাড়ার পুরো ছবিটাই বদলে যাবে।”
মুম্বই মডেল ও পরিচালকদের জন্য ৩০% ভর্তুকি
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মুম্বইতে মজদুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মহাগুরু বলেন, তিনি সেই নিয়ম ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে চান। গিল্ডের ভোটের পর ইম্পা-র (EIMPA) নির্বাচন সম্পন্ন হলে সব পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে যাবতীয় ক্ষোভ ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
পাশাপাশি, বাংলা সিনেমার নতুন জোয়ার আনতে পরিচালকদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি বড় ঘোষণা করেন। মিঠুন জানান, পরিচালকদের নতুন ছবি তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি (Subsidy) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ও লেবার কমিশনের নিয়মে ভোট: রুদ্রনীল
টলিউডের এই পরিবর্তন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন তারকা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। আগের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগে এসএমএসের মাধ্যমে নামমাত্র ভোট হতো। তবে এবার সম্পূর্ণ লেবার কমিশনের নিয়ম মেনে, সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রচুর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে স্বচ্ছভাবে ভোটদান চলছে। এবার ফলাফলের পর কে কোন দায়িত্বে আসেন, সেটাই দেখার।”