১ নভেম্বর দিল্লিতে মহা-সংগ্রাম! রাহুলের মেগা মিছিল আটকে দিল পুলিশ, দিল্লির রাজপথে তীব্র উত্তেজনার পারদ!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লি জুড়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc)-র প্রস্তাবিত কর্মসূচি ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানে জনসভা করার প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হলেও, কনট প্লেস ও মিন্টো রোড থেকে শুরু হতে যাওয়া বহুল চর্চিত প্রতিবাদ মিছিলে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

কী জানাচ্ছে দিল্লি পুলিশ?
শুক্রবার দিল্লি পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট জানান, ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের সমাবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি আগে থেকেই দেওয়া রয়েছে। তবে কনট প্লেস-মিন্টো রোড সংযোগস্থল থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত যে দীর্ঘ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, তার জন্য কোনো লিখিত আবেদন পুলিশের কাছে এসে পৌঁছায়নি বা কোনো আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি।

রাহুল গান্ধীর সেই ঘোষণা ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি ‘আস্ক মি’ (Ask Me) লাইভ সেশনের সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ১ নভেম্বর দুপুর ঠিক ১২টার সময় শহরের প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের মিন্টো রোড সংযোগস্থল থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। ওই স্থান থেকে পায়ে হেঁটে রামলীলা ময়দানে পৌঁছনোর কর্মসূচির কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপুল সংখ্যায় এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে রাহুল গান্ধীর এই আচমকা ঘোষণার পরপরই সরব হয় নিউ দিল্লি ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ। সেন্ট্রাল জেলার ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং এবং নিউ দিল্লি জেলার ডিসিপি শচীন শর্মা যৌথভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, এই পদযাত্রা বা মিছিলের জন্য পুলিশের কাছে কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি।

১ নভেম্বর কি তবে আটকে দেওয়া হবে মিছিল?
মিছিলটি পুলিশ মাঝপথেই আটকে দেবে কিনা— সেই প্রশ্নে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানান, “আগাম কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আমরা পুরো পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখছি। সময় ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আইনানুযায়ী উপযুক্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল অভিযোগ তুলেছিলেন যে, সমস্ত আইনি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ নেতাদের রামলীলা ময়দানে সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে বাধা দিচ্ছে।

তবে সেই অভিযোগ হটিয়ে দিয়ে দিল্লি পুলিশের তরফে আগেই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল যে, গত ১৭ অক্টোবর অনুমোদিত পারমিশন অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রামলীলা ময়দান বিরোধী জোটের জন্য বুক করা রয়েছে। ফলে জনসভার অনুমতি প্রত্যাহার করার প্রশ্নই ওঠে না।

তবে মিছিল নিয়ে ১ নভেম্বর সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাজপথগুলিতে আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি না ঘটে, তার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে ১ নভেম্বর দিল্লির রাজপথে এক হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক তরজা প্রত্যক্ষ করতে চলেছে দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *