ভুয়ো ডাক্তার, নামসর্বস্ব নার্সিংহোম আর ভুয়ো রোগী! ‘স্বাস্থ্যসাথী’র কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ে তোলপাড় রাজ্য

রাজ্যের অন্যতম প্রধান জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’কে কেন্দ্র করে সামনে এলো এক চরম জালিয়াতির চিত্র। রেশনের পর এবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেও মিলল লক্ষ লক্ষ ‘ভূতুড়ে’ বা ভুয়ো কার্ডের হদিস। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রশাসনিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ ভুয়ো কার্ডের অস্তিত্ব, যা নিয়ে স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনিক অলিন্দে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ভুয়ো রোগী, ডাক্তার থেকে নার্সিংহোম—সবই নকল! তদন্তে জানা গিয়েছে, সরকারি তহবিল থেকে কোটিকোটি টাকার বিমা বাবদ অর্থ আত্মসাৎ করতে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি বিশাল সুসংগঠিত চক্র। এই চক্রের কারসাজিতে যে ভুয়ো বিলগুলি তৈরি করা হতো, সেখানে মিলছে ভুয়ো চিকিৎসকদের স্বাক্ষর। কেবল ডাক্তারই নন, যে সমস্ত রোগীদের নামে চিকিৎসার খতিয়ান জমা দিয়ে বিমার টাকা দাবি করা হয়েছে, তাঁদের একটি বড় অংশেরই বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই!
সবচেয়ে তাজ্জব বানানোর মতো তথ্য হলো, কাজাগপত্রে এমন কিছু নার্সিংহোমের নাম দেখিয়ে বিমার অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে, যার কোনো অস্তিত্বই বাস্তবে নেই। এই সমস্ত ভুয়ো ও নামসর্বস্ব নার্সিংহোমগুলি সরকারের স্বাস্থ্য বিমার আওতা থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা তুলে গিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
কঠিন পদক্ষেপের পথে প্রশাসন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের এই বিশাল দুর্নীতি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। অবিলম্বে এই ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ ভুয়ো কার্ড চিহ্নিত করে ব্লক ও বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব ভুয়ো নার্সিংহোম ও অসাধু চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সরকারি প্রকল্পের অর্থ যাতে কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।