ট্রাম্পের ভাগ্যে কী আছে? আমেরিকানদের ৩ ঘণ্টার ভোট নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়ার!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী বা ‘মিডটার্ম’ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। আমেরিকান ভোটাররা এমন এক ঐতিহাসিক রায়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ের নীতি নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

মিডটার্ম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন আসলে কী?আগামী ৩রা নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কংগ্রেসের নতুন প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে ভোট দেবেন। দেশটির দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট এই আইনসভা মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—উচ্চ কক্ষ ‘সিনেট’ এবং নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদ’ (হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস)।

সাধারণত প্রতি দুই বছর পর পর কংগ্রেসের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝপথে বা মাঝামাঝি সময়ে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় বলেই একে ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করা হয়।

কেন এই নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ? মার্কিন কংগ্রেসের প্রধান দায়িত্ব হলো সমগ্র দেশের জন্য নতুন যুক্তরাষ্ট্রীয় বা ফেডারেল আইন প্রণয়ন ও পাস করা। এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই ঠিক করে দেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজস্ব দল ‘রিপাবলিকান’ নাকি বিরোধী দল ‘ডেমোক্র্যাট’—কার হাতে থাকছে কংগ্রেসের রাশ। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ওপরই নির্ভর করে প্রেসিডেন্ট তাঁর বিভিন্ন বড় বড় সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা কতটা সহজে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে, ট্রাম্প প্রশাসন এ যাবৎ কেমন কাজ করেছে, দেশের সাধারণ মানুষ তার প্রতি কতটা সন্তুষ্ট—এই নির্বাচনকে সেই মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাদের নির্বাচিত করছেন মার্কিন নাগরিকরা?এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের (House of Representatives) সর্বমোট ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই নতুন সদস্য নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত এই প্রতিনিধিরা দুই বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সাধারণ নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো নতুন প্রস্তাবিত আইন প্রথমত এই প্রতিনিধি পরিষদেই উত্থাপিত হয় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় মূল বিতর্ক। ফলে সরকার গঠন ও শাসনকাজে এই নির্বাচন অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *