‘আমাকে ইট মেরেছিল, তাই ৫ রাউন্ড গুলি চালিয়েছি!’ ভরা রাস্তায় ২২ সেকেন্ডে ৩ জনকে খুনের হাড়হিম ভিডিও ভাইরাল

গাড়ি পার্কিং সংক্রান্ত সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ভরদুপুরে প্রকাশ্যে ঘটে গেল নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড। লখনউয়ের সাদাতগঞ্জ এলাকায় এক যুবক এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে স্রেফ পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করেছে। গত ২৬ অক্টোবর সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর থেকে এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি এই হত্যাকাণ্ডের একটি রোমহর্ষক ও হাড়হিম করা সিসিটিভি/মোবাইল ভিডিও ফুটেজ সামনে আসতেই বিষয়টি নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
২২ সেকেন্ডে ৫ রাউন্ড গুলি, প্রকাশ্যে ট্রিপল মার্ডার
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়—সকলের চোখের সামনেই এক যুবক মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে চরম হিংস্রতায় পরপর পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান। মূল অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী শুক্লা নামের ওই যুবক প্রথমে পরপর দু’বার গুলি চালান। এরপর ঠান্ডা মাথায় পিস্তলে পুনরায় নতুন কার্তুজ ভরে আরও তিনবার গুলি ছোড়েন।
ঘটনার আকস্মিকতায় পথচারী ও স্থানীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। গুলিবৃষ্টির জেরে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন শিবাজি তিওয়ারি, শিবেন্দ্র তিওয়ারি এবং সুয়াশ তিওয়ারি নামে একই পরিবারের ৩ জন।
‘আমাকে ইট দিয়ে মেরেছিল, তাই গুলি করেছি’
সামনে আসা ভিডিও ক্লিপটিতে অভিযুক্ত শুক্লাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমাকে ইট দিয়ে মারা হয়েছিল, তাই আমি গুলি চালিয়েছি।” পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পরপরই তৎপর হয়ে অভিযুক্ত শুক্লাকে এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল পিস্তল এবং ৪টি ব্যবহৃত খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পার্কিং বিবাদ থেকেই রক্তক্ষয়ী পরিণতি
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ একটি ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্ক করাকে কেন্দ্র করে তিওয়ারি পরিবার এবং শুক্লার মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং শুক্লা বন্দুক বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর, সাসপেন্ড দুই পুলিশ কর্মকর্তা
এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোট ৮ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করেছে।
অন্যদিকে, জনবহুল এলাকায় এমন চাঞ্চল্যকর অপরাধ এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দায়ে গত মঙ্গলবার সাদাতগঞ্জ থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা আউটপোস্টের ইনচার্জ অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspend) করা হয়েছে। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।