বিগ বস বাংলায় চরম পক্ষপাতিত্ব! নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মনামী?

ঘরে ঘরে এখন একটাই আলোচনার বিষয়—‘বিগ বস বাংলা’। দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে এই জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো এখন একেবারে জমজমাট পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রতিযোগিতার ৬০ দিন পার হওয়ার পরেই ঘরের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সম্পর্কগুলোর সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। একদিকে ঘরের নতুন ক্যাপ্টেন হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ‘লাফটারসেন’ খ্যাত নিরঞ্জন মণ্ডল, অন্যদিকে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মারাত্মক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ঘরে বোমা ফাটিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। সব মিলিয়ে প্রতিমুহূর্তে নতুন মোচড় নিচ্ছে শোয়ের গতিপ্রকৃতি।
নির্মাতাদের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
সবচেয়ে বড় বিতর্কের সূত্রপাত হয় একটি হালকা মেজাজের টাস্ককে কেন্দ্র করে। নির্দেশ ছিল, প্রতিযোগীদের একে অপরকে নিয়ে নিজেদের প্রকৃত ভাবনা সোজাসাপ্টা ভাষায় সামনে আনতে হবে। আর সেই সুযোগেই মাইক হাতে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন মনামী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ‘বিগ বস’ কর্তৃপক্ষ নিয়ম ভেঙে অকারণে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে নিরঞ্জন মণ্ডল এবং সোনামণি সাহাকে। মনামীর অভিযোগ, নিরঞ্জনকে সবসময় নিয়মবহির্ভূতভাবে একটু বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং সোনামণিকে দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ক্ষমতা। অভিনেত্রীর এই মন্তব্য শোয়ের অন্দরে নতুন করে প্রতিদ্বন্দিতার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয়বার ক্যাপ্টেন্সির তাজ নিরঞ্জনের মাথায়
বিতর্কের আবহেও ঘরের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে তৈরি হওয়া টানটান উত্তেজনায় শেষ হাসি হেসেছেন নিরঞ্জন। নন্দিনী দত্ত, সৃজলা গুহ এবং সৌরভ দাসের মতো হেভিওয়েট প্রতিযোগীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। ফাইনাল লড়াইয়ে সৌরভ দাসকে একেবারে কোণঠাসা করে দেন নিরঞ্জন। খেলার নির্দিষ্ট নিয়ম ভাঙার কারণে সৌরভ পিছিয়ে পড়েন এবং সেই সুযোগেই বাজিমাত করেন নিরঞ্জন। এই জয়ের সুবাদেই ‘বিগ বস বাংলা’-র ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রতিযোগী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যাপ্টেন্সির মুকুট পরে রেকর্ড গড়লেন তিনি।
ভেঙে পড়ছে বন্ধুত্বের মুখোশ, কাঠগড়ায় কে?
শুধু মনামী বা নিরঞ্জনের লড়াই নয়, বাকি প্রতিযোগীদের কথার লড়াইয়েও গরম হয়ে উঠেছে বিগ বসের ঘর। কোন সম্পর্ককে সবচেয়ে ‘নকল’ মনে হয়? এই বিস্ফোরক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে নন্দিনী সরাসরি আঙুল তোলেন সৃজলা গুহ এবং জিতু কমলের জুটির দিকে। অন্যদিকে, সৌরভ দাসের চোখে ঘরের সবচেয়ে বড় ‘বিশ্বাসঘাতক’ হলেন নিরঞ্জন স্বয়ং। খেলা যত ফিনালের দিকে এগোচ্ছে, ততই অন্দরের পুরনো বন্ধুত্বের মুখোশ খুলে বেরিয়ে আসছে আসল রূপ। আর এই নাটকীয় মোড়েই প্রতিদিন টিভির পর্দায় চোখ আটকে রাখছেন লাখো দর্শক।