“এটি একটি বিলাসিতার মামলা!” রাজেশ খান্না কাণ্ডে শীর্ষ আদালতের রায়ে ঝুসল আইনি লড়াইয়ের অবসান

প্রয়াত বলিউড সুপারস্টার রাজেশ খান্নার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে ‘বিবাহ’ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন অভিনেত্রী ও লেখিকা অনিতা আদভানি। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত তাঁর এই আবেদন সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়ে একে সরাসরি একটি “বিলাসবহুল মামলা” বা লাক্সারি লিটিগেশন বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। এর ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অনিতা আদভানির সমস্ত আইনি আশার অপমৃত্যু ঘটল।
বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, এই আবেদনটি গ্রহণ করার মতো কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি বা সারবত্তা নেই। এদিনের এই রায়ের ফলে বম্বে হাইকোর্ট ও মুম্বই সেশনস কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ই বহাল রইল।
পুরো মামলার পটভূমি: ২০১২ সালের জুলাই মাসে ৬৯ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হিন্দি সিনেমার প্রথম ‘সুপারস্টার’ রাজেশ খান্না। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ দিনগুলিতে অনিতা আদভানি তাঁর পাশে ছিলেন এবং নিজেকে প্রয়াত অভিনেতার ঘনিষ্ঠ দাবি করে আসছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, দীর্ঘ বছর ধরে তিনি রাজেশ খান্নার সঙ্গে বান্দ্রার বিখ্যাত ‘আশীর্বাদ’ বাংলোতে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।
২০১২ সালে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পরই অভিনেতা তথা প্রাক্তন স্ত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া, মেয়ে টুইঙ্কল খান্না এবং জামাই অক্ষয় কুমার তাঁকে ওই বাংলো থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০১৩ সালে অনিতা আদভানি ২০০৫ সালের গার্হস্থ্য হিংসা থেকে নারীদের সুরক্ষা আইনের (Domestic Violence Act) অধীনে ডিম্পল কাপাডিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি তিনি মাসিক ভরণপোষণ এবং বান্দ্রায় একটি তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাবি জানান। এমনকি ২০১৩ সালে সলমন খান সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এও অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
আদালতের আগের রায়সমূহ: এর আগে ২০১৫ সালে বম্বে হাইকোর্ট অনিতা আদভানির অভিযোগ খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে, রাজেশ খান্নার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনোভাবেই ‘বিবাহ’ বা আইনগত বৈধতার পর্যায়ে পড়ে না। ফলে তিনি গার্হস্থ্য হিংসা আইনের অধীনে কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী নন। এরপর ২০১৭ সালে দিনদোশি সেশনস কোর্টও তাঁর দেওয়ানি মামলা খারিজ করে দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনিতা। কিন্তু শীর্ষ আদালতও সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়ায় রাজেশ খান্নার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে আইনি সিলমোহর দেওয়ার সমস্ত পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।