“বেদ ছাড়া বাকি সব গ্রন্থে সংযোজন হয়েছে!” সনাতন ধর্ম নিয়ে রামদেবের মন্তব্যে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক

সনাতন ধর্মগ্রন্থে ইচ্ছাকৃত বিকৃতির বিস্ফোরক অভিযোগ রামদেবের! শুদ্ধিকরণের জন্য পণ্ডিতদের নিয়ে বড় কমিটির ঘোষণা
মুঘল ও ব্রিটিশ আমলেই দেশের প্রাচীন সংস্কৃতি এবং ধর্মগ্রন্থগুলির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে মোর্চাবন্দী শাসকরা! বেদ বাদে অন্যান্য সনাতন ধর্মগ্রন্থে ইচ্ছেমতো সংযোজন ও বিকৃতি ঘটানো হয়েছে—এমনই এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি তুললেন বিশিষ্ট যোগগুরু স্বামী রামদেব। শুধু তাই নয়, সনাতন ধর্মগ্রন্থগুলিকে সমস্ত বিকৃতি ও ভেজালমুক্ত করে সঠিক সত্য সামনে আনতে দেশের শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনেরও বড় ঘোষণা করেছেন তিনি।
কী দাবি করলেন যোগগুরু রামদেব?
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামদেব দাবি করেন যে, প্রাচীন ভারতীয় দর্শন এবং সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থগুলির ওপর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজনৈতিক ও ষড়যন্ত্রমূলক হস্তক্ষেপ চলেছে। তাঁর মতে, পবিত্র ‘বেদ’ ছাড়া পরবর্তীকালে রচিত ও সংগৃহীত বিভিন্ন সনাতন ধর্মগ্রন্থে ইচ্ছাকৃতভাবে বহু ভুল তথ্য, কাল্পনিক গল্প এবং অনৈতিক সংযোজন ঘটিয়েছে মুঘল ও ব্রিটিশ শাসকরা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এই বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ধর্মগ্রন্থ শুদ্ধ করতে আসছে মেগা পণ্ডিত কমিটি
এই ঐতিহাসিক বিকৃতির জাল ছিন্ন করে ধর্মগ্রন্থগুলির আসল রূপ ও খাঁটি বার্তা জনসমক্ষে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগগুরুর শিবির। রামদেব ঘোষণা করেছেন, দেশজুড়ে থাকা প্রবীণ বৈদিক পন্ডিত, সংস্কৃত বিশেষজ্ঞ এবং ইতিহাসবিদদের নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সেগুলির আসল রূপ বা শুদ্ধ সংস্করণ সামনে আনবে।
যোগগুরুর এই বিস্ফোরক দাবি এবং ধর্মগ্রন্থ সংশোধনের এই উদ্যোগ দেশজুড়ে নতুন করে এক প্রবল বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।