দীপাবলির মুখে আকাশছোঁয়া বিমানের ভাড়া! কলকাতা-মুম্বই রুটে ৫১% খরচ বৃদ্ধি, পকেট বাঁচাতে জানুন ৪টি সিক্রেট ট্রিকস

উৎসবের মরশুমে প্রতি বছরই কর্মসূত্রে বাইরে থাকা মানুষ নিজের ভিটেমাটিতে ফেরেন, আবার অনেকে পরিবারের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন ছুটিতে ঘুরতে। তবে ২০২৬-এর এই উৎসবের দিনগুলিতে যাতায়াতের অতিরিক্ত খরচ আমজনতার পকেটে টান ফেলতে চলেছে। ট্রেনের কনফার্ম টিকিট পেতে কালঘাম ছুটছে যেমন, তেমনই লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে বিমানের টিকিটের দাম। ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বিভিন্ন রুটে বিমান ভাড়া গড়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দিল্লি-হায়দরাবাদ রুটে বিমানের ভাড়া বেড়েছে রেকর্ড ৬৮%। একইভাবে মুম্বই-কলকাতা রুটে ৫১%, দিল্লি-গোয়া রুটে ৩৯% এবং মুম্বই-বেঙ্গালুরু রুটে ভাড়াবৃদ্ধি ঘটেছে ৩৭%। আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু লাভজনক রুটে বিমানের সংখ্যা কম থাকাকেই মূলত এই চড়া দামের কারণ বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
উৎসবের এই আবহে কীভাবে কম খরচে বিমান ও ট্রেনের টিকিট কাটবেন, তার বিশেষ কিছু টিপস জেনে রাখা জরুরি:
✈️ বিমানের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পকেট বাঁচানোর উপায়
১. আগেভাগে বুকিং করুন
বিমানে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে না রেখে অন্তত ২ থেকে ৩ মাস আগে থেকেই টিকিট কাটার চেষ্টা করুন। এতে কম দামে ফেয়ার বা টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে। শেষ মুহূর্তে চাহিদা বাড়লে বিমান সংস্থাগুলি টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া করে দেয়।
২. প্ল্যাটফর্ম ও তারিখের তুলনা
একটিমাত্র ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ভরসা না রেখে একাধিক টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার তুলনা করে নিন। একইসঙ্গে আপনার পছন্দ করা দিনের পাশাপাশি আগে-পরের ১-২ দিনের ভাড়াও পরীক্ষা করুন।
৩. ট্রাভেল ডে এবং সময় পরিবর্তন
উৎসবের ঠিক আগের দিনগুলিতে ভাড়ার হার সবচেয়ে বেশি থাকে। সম্ভব হলে সপ্তাহের মাঝামাঝি কোনও দিন অথবা ভোরের বা একদম রাতের ফ্লাইটের টিকিট বেছে নিন। এই সময়গুলিতে সাধারণত ফ্লাইটের চাহিদা কম থাকায় টিকিটের দাম কিছুটা কম হয়।
৪. ব্যাঙ্ক অফার ও ক্যাশব্যাক ব্যবহার
টিকিট বুক করার সময় পেমেন্ট পেজে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের ডিসকাউন্ট অফার দেখে নিন। এছাড়া বিমান ও হোটেলের কম্বো প্যাকেজে প্রায়শই বিশেষ ছাড়ে বুকিং করা যায়।
🚆 ট্রেনের টিকিট সহজে ও কমে পাওয়ার কৌশল
১. ওপেনিং ডেতেই টিকিট কাটার চেষ্টা
ভারতীয় রেলে সাধারণত যাত্রা শুরুর ৬০ দিন আগে থেকে অ্যাডভান্স রিজার্ভেশন শুরু হয়। আপনার বাড়ি ফেরার তারিখ আগে থেকেই নির্ধারণ করে যেদিন বুকিং উইন্ডো খুলবে, ঠিক সেই দিন ও সময়েই টিকিট কাটার চেষ্টা করুন।
২. বিকল্প স্টেশন ও রুটের খোঁজ
পছন্দের মূল ট্রেনে কনফার্ম টিকিট না মিললে ওই একই রুটে অন্য কোনও ট্রেন আছে কি না, তা দেখে নিন। তাছাড়া মূল স্টেশনের কাছাকাছি অন্য কোনও বিকল্প স্টেশন থাকলে সেখান থেকেও যাত্রার অপশন বুক করা যেতে পারে (যেমন দিল্লি থেকে হাওড়ার টিকিট না মিললে শিয়ালদহ বা কলকাতা টার্মিনালের টিকিট পরীক্ষা করা)।
৩. বিশেষ বা স্পেশাল ট্রেনে নজর
উৎসবের মরশুমে অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে ভারতীয় রেলের তরফে একাধিক স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়। রেলের অফিসিয়াল পোর্টাল ও বিভিন্ন অথরাইজড টিকিট বুকিং অ্যাপে নিয়মিত নজর রাখুন, যাতে নোটিফিকেশন আসা মাত্রই স্পেশাল ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেন।
৪. পেমেন্ট ডিসকাউন্ট গ্রহণ
আজকাল ডিজিটাল ওয়ালেট, ইউপিআই এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রেলে টিকিট বুক করলে প্রক্রিয়াকরণ ফি মকুব বা ক্যাশব্যাক মেলে। টিকিট পেমেন্ট করার সময় এই অফারগুলি অবশ্যই ব্যবহার করুন।
উপসংহার: উৎসবের ভিড়ে শেষ মুহূর্তের বিভ্রান্তি ও চড়া খরচ এড়াতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। টিকিটের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আজই আপনার বাজেট অনুযায়ী বিকল্প পথ ও বুকিংয়ের সঠিক দিন বেছে নিন।