ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জন্ম এক হাজার শিশুর! সদ্যোজাতদের অবাক করা নাম শুনে চোখ কপালে তুলবেন

একদিকে সর্বগ্রাসী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড গোটা উপকূলবর্তী অঞ্চল, চারদিকে বইছে ধ্বংসের ঝড়; আর অন্যদিকে সেই চরম দুর্যোগের রাতেই জন্ম নিল প্রায় এক হাজার নতুন প্রাণ! ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াল রূপের মাঝেই জন্মগ্রহণ করা এই সদ্যোজাতদের অবাক করা নাম নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। কারও নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, কারও নাম আবার ‘বর্ষা’, ‘তুফান’ কিংবা ‘বাতাসি’।
আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছিল গর্ভবতীদের
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর মহাতাণ্ডবে ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চলেও চরম ঝড়বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। তবে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়াতে আগে থেকেই তৎপর হয়েছিল প্রশাসন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের লাল সতর্কতা জারি হতেই উপকূলের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গর্ভবর্তী মহিলাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করার কাজ শুরু হয়েছিল।
রাজ্যজুড়ে মোট ২২৪৫ জন প্রসূতিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। আর সেই সুরক্ষিত ব্যবস্থার ফলেই গত ২৮ অক্টোবর, ওই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের তাণ্ডবের মাঝেই জন্ম নেয় ৯৩১টি নবজাতক। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মা ও সদ্যোজাত সমস্ত সন্তানই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
জন্মঝড়ে নাম রাখলেন ‘অর্ণব’ ও ‘বর্ষা’!
হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশ, জন্মলগ্নের এই ভয়ানক প্রাকৃতিক পরিবেশের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই সদ্যোজাতদের নাম রাখা নিয়ে পরিবারগুলির মধ্যে দেখা গিয়েছে এক অদ্ভুত উন্মাদনা। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ল্যান্ডফলের ঠিক সময়ে জন্ম নেওয়ার কারণে একাধিক ছেলে শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’। পাশাপাশি, কন্যাসন্তানদের নাম রাখা হয়েছে ‘বর্ষা’, ‘বর্ষারানি’, ‘তুফান’, ‘পবন’ ও ‘বাতাসি’-র মতো ভিন্নধর্মী ও তাৎপর্যপূর্ণ নাম। সদ্যোজাতদের বার্থ সার্টিফিকেট বা জন্ম শংসাপত্রে এই অভিনব নামগুলি নথিভুক্ত হতে দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরাও।
কেন এই ঝড়ের নাম ‘অর্ণব’?
উল্লেখ্য, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে তাণ্ডব চালানো এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছিল প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। ভারতীয় মৌসম ভবনের (IMD) ঝড়ের নামকরণের পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দটির অর্থ হলো ‘সমুদ্র’ বা ‘সাগর’।
অবশ্য আবহাওয়াবিদরা বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা, গতিপথ কিংবা সেটি আদতে কোথায় বা কোন দেশে আঘাত হানবে, তার সঙ্গে এই নামকরণের আক্ষরিক অর্থের কোনো যোগসূত্র থাকে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আগে থেকেই অনুমোদিত ও পর্যায়ক্রমিক তালিকা থেকে নিয়মানুযায়ী পর পর এই নামগুলি চয়ন করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতাকে পেছনে ফেলে এক হাজার নতুন শিশুর এই পৃথিবীর আলো দেখার ঘটনাটিই এখন গোটা জনপদে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।