‘অর্ণব’ কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ নতুন ফাঁদ! কোন কোন জেলায় নামছে ভারী দুর্যোগ? জেনে নিন আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ করে শক্তি হারিয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ— দুর্যোগের মেঘ কাটার এখনই কোনো লক্ষণ নেই। ঘূর্ণিঝড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ঘনাচ্ছে এক নতুন গভীর নিম্নচাপ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্দামান সাগরে জন্ম নেওয়া এই নিম্নচাপটি আগামী শনিবারের মধ্যে তীব্র রূপ নিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং বঙ্গোপসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে পারে।
একদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে হু-হু করে ঢোকা প্রচুর জলীয় বাষ্প, আর অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে একের পর এক শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা— এই জোড়া ফলার জেরেই হঠাৎ বাংলা জুড়ে অকাল বৃষ্টির দাপট শুরু হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলবর্তী এলাকায় ও মৎস্যজীবীদের আজ ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা?
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ পুরোপুরি মেঘলা।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: আজ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি রয়েছে।
ঝোড়ো হাওয়া: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাকি জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার পূর্বাভাস: কলকাতায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৮ থেকে ৯৮ শতাংশ। দিনভর আংশিক মেঘলা আকাশের সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আগামীকালের আপডেট: শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তেজ কিছুটা কমবে। তবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত আবহাওয়া মূলত শুষ্ক হলেও মাঝে দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গ ও সিকিম: পাহাড়ে শুরু হাড়হিম তুষারপাত!
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। শুক্রবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের বৃষ্টি: আজ দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার (৩১ অক্টোবর) দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সিকিমে তুষারপাত: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পার্বত্য অঞ্চল। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে সিকিমের নাথুলা এবং নাথাং ভ্যালিতে ইতিমধ্যেই মরশুমের তুষারপাত শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ ও আগামীকাল সেখানে ভারী তুষারপাতের লাল/কমলা সতর্কতা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বিদায় নিলেও, জোড়া নিম্নচাপ ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটে বাংলায় এখনই আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।