উৎসবের মরশুমে স্তব্ধ হবে বাণিজ্য? রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের মেগা সমাবেশের আগেই চরম বিপাকে দিল্লির ব্যবসায়ীরা!

উৎসবের মরশুমে কেনাকাটার ধুমধাম চলছে দেশজুড়ে, কিন্তু দিল্লির ব্যবসায়ীদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ। দিল্লির বুকে একের পর এক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের কারণে নিরাপত্তা রক্ষার্থে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যেই আগামী ১লা নভেম্বর রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের এক সুবিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দিওয়ালির ঠিক মুখে এই বিশাল সমাবেশের ফলে চরম যানজট ও ব্যবসার চরম ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে সমাবেশটি দিওয়ালির পর পর্যন্ত স্থগিত রাখার মানবিক আবেদন জানিয়েছেন।

সংবাদের ৩টি প্রধান বিষয়:

  • রাহুল গান্ধীকে খোলা চিঠি: সিটিআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “২০টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের ২০ জন প্রতিনিধি রাহুল গান্ধীর কাছে মাত্র ২০ মিনিট সময় চাইছেন নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে।”

  • ব্যবসা বাঁচানোর আকুতি: উৎসবের দিনে সমাবেশ হলে ট্র্যাফিক স্তব্ধ হয়ে যাবে, যার ফলে হাজার হাজার ছোট ব্যবসায়ী মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

  • সংঘাত নয়, সমাধান চাই: ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তারা কোনো রাজনৈতিক লড়াই চান না, স্রেফ আলোচনার মাধ্যমে রাহুল গান্ধী যাতে এই র‍্যালি দিওয়ালির পর স্থগিত করেন, সেই বিনীত অনুরোধ করছেন।

“আমরা লড়াই নয়, আলোচনা চাই”: কী বলছেন সিটিআই প্রধান?

সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, “রাহুল গান্ধী সবসময় নিজেকে ছোট ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন যে তিনি ছোট ব্যবসায়ীদের কথা শোনেন। তাই দিল্লির ২০টি বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য মাত্র ২০ মিনিট সময় চাইছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “রাহুল গান্ধী যদি আমাদের বুঝিয়ে বলতে পারেন যে এই সমাবেশের ফলে দিল্লির বাজারের কেনাকাটায় কোনো প্রভাব পড়বে না কিংবা ব্যবসার উন্নতি হবে, তবে আমরা আমাদের আর্জি ফিরিয়ে নেব। আর যদি দেখা যায় যে ব্যবসায়ীদের বিরাট লোকসান হবে, তবে তাঁর উচিত জনস্বার্থে এই সমাবেশ আপাতত স্থগিত রাখা।”

কেন তৈরি হয়েছে উদ্বেগ?

সাধারণত দিওয়ালি এবং ধনতেরাসের মতো বড় উৎসবের সময়ে দিল্লির বাজারগুলোতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা কেনাকাটা করতে আসেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিশাল সমাবেশের কারণে পুরো সেন্ট্রাল দিল্লি এবং আশপাশের বাজারগুলোতে পুলিশের বড় আকারের ট্র্যাফিক ডায়ভার্সন থাকবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারা কেনাকাটা করতে আসতে পারবেন না, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের রুজিরুটিতে বড় আঘাত হানবে।

এখন দেখার বিষয়, ব্যবসায়ীদের এই ‘২০ মিনিট ও ২০ বাজার’-এর বিশেষ আবেদন মেনে নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *