গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনের অভিযুক্ত, বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে খতম প্রহ্লাদ

বনগাঁর গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। গ্রেফতারির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত হল মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মাত্র তিন মাস আগে বারুইপুরেও প্রায় একই কায়দায় এক অভিযুক্তের এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে গাইঘাটায় একটি বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিল ওই একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে একটি ফোন পেয়ে সে জলসা প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরদিন অর্থাৎ রবিবার সকালে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে ওই ছাত্রীর বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, কিশোরীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছে।

গ্রেফতার ও জেরার পর এনকাউন্টার

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদের মুখে দ্রুত নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তদন্তে নেমে ২৩ বছরের অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত যুবক ওই কিশোরীর আত্মীয় বলেই জানা গেছে। রবিবার তাকে গ্রেফতারের পর সোমবার সারাদিন দফায় দফায় জেরা করা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ভোররাতে প্রহ্লাদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য যায় তদন্তকারী দল। সেই সময়ই আকস্মিকভাবে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। এই হামলায় এক পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রহ্লাদকে দ্রুত চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বারুইপুরকাণ্ডের স্মৃতি ফেরাল গাইঘাটা

উল্লেখ্য, প্রায় তিন মাস আগে বারুইপুরেও একটি নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল একইভাবে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, এক্ষেত্রেও পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। বারবার একই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *