“ঘণ্টায় ১৪০ কিমি গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’!” ল্যান্ডফলের সময় ও রুট নিয়ে জারি চূড়ান্ত সতর্কতা

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি অবশেষে ঘনীভূত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ (Cyclone Arnab) পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে গোপালপুর থেকে ৫৮০ কিলোমিটার, বিশাখাপত্তনম থেকে ৬১০ কিলোমিটার এবং কাঁকিনাড়া থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এই ঘূর্ণিঝড়। বর্তমানে সমুদ্রের ওপর ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার থাকলেও, আজ সোমবার মধ্যরাতেই এটি তীব্র শক্তি সঞ্চয় করে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করতে চলেছে।
কোথায় ও কখন হতে চলেছে ল্যান্ডফল? আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আগামী ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার কাছাকাছি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম বা ‘ল্যান্ডফল’ করবে।
-
ল্যান্ডফলের সময় গতিবেগ: উপকূলের স্পর্শ করার সময়ে অর্ণবের গতিবেগ থাকবে প্রতি ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, যার সর্বোচ্চ ঝাপটা বা দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
-
পরবর্তী গতিপথ: ল্যান্ডফলের পর স্থলভাগে প্রবেশের সাথে সাথে এটি ধীরে ধীরে তার শক্তি হারাবে। ২৯ অক্টোবর নাগাদ এটি একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ছত্তিসগঢ়ের দিকে চলে যাবে।
দক্ষিণবঙ্গ ও সংলগ্ন উপকূলবর্তী এলাকায় বড় বিপর্যয় সতর্কতা: যদিও ঘূর্ণিঝড়টির মূল আঘাত থাকবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে, তবুও এর সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গের ওপর।
-
ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা: ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে, যা সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
-
২৭ অক্টোবরের আবহাওয়া: মঙ্গলবার কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।
-
২৮ অক্টোবরের বিধ্বংসী পূর্বাভাস: বুধবার ২৮ অক্টোবর বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই বাড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির অতি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উপকূলীয় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।