আদানির মানহানি মামলায় তোলপাড় কলকাতা হাইকোর্ট! ইউটিউব-ফেসবুক থেকে অবিলম্বে সরাতে হবে বিতর্কিত ভিডিও

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শিল্পপতি গৌতম আদানির সম্পর্ক নিয়ে তৈরি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বিস্ফোরক ভিডিও ঘিরে বড় আইনি নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদানি গ্রুপের তরফে দায়ের করা মানহানির মামলায় ওই বিতর্কিত ভিডিও, তার বিভিন্ন অংশ এবং একই ধরনের সমস্ত প্রতিলিপি সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে সরাতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি আর্যক দত্ত।

একই সাথে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ভিডিও নতুন করে আপলোড, শেয়ার বা প্রচারের ওপর কড়া অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

কী ছিল বিতর্কিত ওই ভিডিওতে?

আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের দায়ের করা মামলায় মূল আপত্তি তোলা হয়েছিল ‘হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া: দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস’ (How Modi & Adani Stole India: The Friendship Files) শীর্ষক একটি ভিডিও নিয়ে।

আদানি গোষ্ঠীর অভিযোগ:

  • ভিডিওটিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

  • ভিডিওটি প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর ইউটিউব (YouTube), এক্স (Twitter) এবং ইনস্টাগ্রামের (Instagram) মতো সমস্ত বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এর বিভিন্ন ক্লিপিং ছড়িয়ে পড়ে।

  • এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে আদানি গ্রুপের ভাবমূর্তি ও বাণিজ্যিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের কড়া অবস্থান

সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এই মেগা মামলার শুনানি হয়। উভয় পক্ষের যুক্তি ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর বিচারক আর্যক দত্ত নির্দেশ দেন যে, শুধুমাত্র বিদ্যমান ভিডিওটি সরালেই চলবে না, বরং কোনো ব্যবহারকারী যাতে নতুন করে একই পোস্ট বা ভিডিও পুনরায় আপলোড বা ছড়াতে না পারে— তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে।

আদালতের পরবর্তী নির্দেশ বা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *