জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগকে সোজা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ! মমতার দলের আবেদনে বড় মোড় রাজনীতিতে

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তাঁর সাম্প্রতিক একতরফা কার্যপদ্ধতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলতি সপ্তাহেই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার যৌথ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। বিশেষ করে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই ঝড় উঠেছে।

জাতীয় স্তরের গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনার— সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই একতরফা নির্দেশ জারি করে চলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি অন্য দুই কমিশনারের একাধিক লিখিত আপত্তি ও নোটও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। উৎসবের মরশুম কাটতে না কাটতেই আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিশাল প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির। একই সঙ্গে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে।

এই জলবায়ুর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে জোড়া আইনি পদক্ষেপ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সোমবার তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেন এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর নেতৃত্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে আবেদন দাখিল করা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত পূর্ববর্তী বিচারাধীন মামলার সঙ্গেই মমতার শিবিরের এই নতুন আবেদনটি যুক্ত করে চলতি সপ্তাহেই একসঙ্গে শুনানি করা হবে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথ ও সংসদীয় মঞ্চেও লড়াই তীব্র করার ছক কষছে তৃণমূল।

অন্যদিকে, এই প্রশাসনিক উত্তেজনার মধ্যেই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই সংক্রান্ত ফয়সালার জন্য চূড়ান্ত বৈঠকের ডাক দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটায় নতুন দিল্লির নির্বাচন সদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গোষ্ঠীকে এক ছাদের তলায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে এর আগে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনলেও কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উভয় শিবিরকে আলাদা নাম ও পৃথক প্রতীক বরাদ্দ করতে বাধ্য হয়েছিল কমিশন। আগামী ৩০ অক্টোবরের এই মেগা বৈঠকেই নির্ধারণ হতে পারে বাংলার রাজনীতিতে কার হাতে থাকবে জোড়াফুল প্রতীকের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *