সীমান্তে মিনি এটিএম খুলে ১৭৫ কোটির লেনদেন! ১৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে ইডি-র ঐতিহাসিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক!

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মাদক চক্র ও অর্থ পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সীমান্ত পার করে বিপুল পরিমাণ ড্রাগস ভারতে আনা এবং হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কালো টাকা মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর এক মেগা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

গত ২৩ অক্টোবর মিজোরাম ও মণিপুরের একাধিক জায়গায় ম্যারাথন অভিযান চালিয়ে ইডি ইতিমধ্যে ১৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এবং ৬ জন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া পুরো ঘটনায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি ও নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার ও যৌথ অভিযান: আইজল, ইম্ফল, চাম্ফাই, লংতলাই এবং মণিপুরের উত্তপ্ত চুড়াচাঁদপুরে একসাথে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এই অপারেশনে ইডি-কে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) এবং মিজোরাম পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পার করে অবাধে ভারতে ঢুকত মারাত্মক হিরোইন, ব্রাউন সুগার এবং মেথামফেটামিন ট্যাবলেট।

অভিযানে মিজোরামে হাওয়ালা কারবারের সাথে যুক্ত ১৭.৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি ও পূর্বে বাজেয়াপ্ত হওয়া ৮.১৯ কোটি টাকা সহ মোট ২৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।

কমিশনের টোপ ও সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার: ইডি-র চাঞ্চল্যকর তদন্তে দেখা গিয়েছে, মণিপুর, মিজোরাম, আসাম এবং ত্রিপুরা— উত্তর-পূর্ব ভারতের এই চার রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল ড্রাগসের নেটওয়ার্ক। সেখানে মাদক বিক্রি করে যে ক্যাশ টাকা উঠত, তা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে স্থানীয় সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেলা হতো।

কমিশনের লোভ দেখিয়ে চাম্ফাই ও লংতলাই এলাকার নিরীহ মানুষদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। টাকা জমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা আবার অন্য অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে সরাতে সরাতে মিয়ানমারে সরবরাহকারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হতো, যাতে টাকার আসল উৎসের কোনো আইনি অস্তিত্ব না মেলে।

মিনি এটিএম সেন্টারে ১৭৫ কোটির গোপন লেনদেন: তদন্তে সবচেয়ে বিস্ফোরক মোড় এসেছে মণিপুরের চুড়াচাঁদপুরের ‘গো আলফা ট্রিপ’ নামে একটি মিনি এটিএম এবং মানি ট্রানস্ফার সেন্টারকে কেন্দ্র করে। এইচ. গৌজলাল নামে এক ব্যক্তি পরিচালিত এই কাউন্টারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি টাকা করে নগদ জমা করতেন মাদক চক্রের মূল সহযোগী জেঙ্গাইনিয়াং ওরফে তানিয়াং।

ইডির হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে এই মিনি এটিএম সেন্টারের মাধ্যমে মোট ২,৯৪৭টি ভুয়ো লেনদেনে প্রায় ১৭৫.০৩ কোটি টাকা বিভিন্ন ফার্মেসি, ভুয়ো ব্যবসায়ী ও বেনামি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এই বিশাল আর্থিক জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে পুরো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আপাতত ধৃত ৬ জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা চলছে এবং জালিয়াতির শিকড়ে পৌঁছাতে সীমান্তজুড়ে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *