‘কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হলো?’ জবাব চায় পরিবার, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রণক্ষেত্র কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ!

সাধারণ পেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১১ বছরের এক বালকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম গাফিলতি এবং পরপর দুটি ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার ফলেই চোখের পলকে মৃত্যু হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রের। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার হাসপাতাল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও মৃতের পরিবারের ধস্তস্তস্তি বাধে।
ঠিক কী ঘটেছিল রবিবারের সকালে?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই বালকের বাড়ি হাওড়ার বি গার্ডেনের বকুলতলায়। সে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পুজোর ছুটিতে কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।
রবিবার সকালে হঠাৎই পেটে ব্যথা অনুভব করায় পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বালকের মা পুনম যাদবের দাবি, হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় তাঁর ছেলের শারীরিক অবস্থা সামান্যতমও খারাপ ছিল না। সে সম্পূর্ণ সুস্থভাবে হেঁটে হাসপাতালেই প্রবেশ করেছিল এবং মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলেছিল।
ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই দ্রুত অবনতি
মায়ের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসক দেখার পর রোগীকে শুতে বলা হয়। সেই সময়ও মা ছেলের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং জল খাইয়েছিলেন। এরপরেই কর্তব্যরত চিকিৎসক এসে একটি ইঞ্জেকশন দেন। কিন্তু পরিবারকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি ঠিক কী ধরনের ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এরপর হাসপাতালের বাইরে থেকে ওষুধ আনতে পাঠানো হয় পরিবারের একজনকে। অভিযোগ, ওষুধ আনতে বাইরে যাওয়ার সুযোগেই রোগীকে আরও একটি ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়। আর দ্বিতীয় ইঞ্জেকশনটি শরীরে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় মারাত্মক শ্বাসকষ্ট। চোখের পলকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি। পরিবারের দাবি, ওই সময় সেখানে কোনো সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, শুধুমাত্র জুনিয়র চিকিৎসকরাই চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন।
তোলপাড় হাসপাতাল চত্বর ও পুলিশের হস্তিক্ষেপ
চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে স্বজনহারা পরিবারের কান্নায় ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মেডিক্যাল কলেজ চত্বর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চেয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়ে দেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বউবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টা জানি। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, আর তার চেয়েও মর্মান্তিক একটি নাবালকের এভাবে প্রাণ চলে যাওয়া। পুরো বিষয়টির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনো চিকিৎসাগত গাফিলতি প্রমাণ হয়, তবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর আসল কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।