“ভারতের মাটিতে পা রাখলেই গুলি!” মেখলিগঞ্জ সীমান্তে চরম উত্তেজনার মাঝে বিজেপি বিধায়কের বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি

মেখলিগঞ্জ সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনার পারদ চড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশিরা ভারতের মাটিতে পা রাখলেই তাদের গুলি করে দেওয়া হবে।” সীমান্তে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BSF) ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, শনিবার বিএসএফ সতর্ক থেকে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে অনুপ্রবেশ না ঘটে, তা নিশ্চিত করবে। বিধায়কের এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মেখলিগঞ্জ সীমান্তে ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার বিকেলে মেখলিগঞ্জ সীমান্তের সানিয়াজান নদী সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে একদল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে বেআইনিভাবে বালি ও পাথর তুলছিল। খবর পেয়ে বিএসএফ জওয়ানরা তাদের বারবার এলাকা ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেন।
কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে রূপ নেয় সংঘর্ষের। অভিযোগ, বেশ কিছু বাংলাদেশি একজোট হয়ে লাঠি ও পাথর নিয়ে বিএসএফের ওপর চড়াও হয়। পাল্টা আত্মরক্ষায় এবং দুষ্কৃতীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিএসএফ গ্রেনেড ব্যবহার করে। গ্রেনেডের বিকট শব্দে অবশেষে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত আতঙ্ক ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
মেখলিগঞ্জ ও শীতলকুচির সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা দুষ্কৃতীরা মাঝেমধ্যেই কাঁটাতার পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে। ভারতীয়দের বাড়িঘরে হামলা, শস্য ও বালি-পাথর চুরি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে বলপূর্বক বাংলাদেশে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটছে।
তারা জানিয়েছেন, কাঁটাতারের ওপারে থাকা ভারতীয় জমিগুলিতে স্থানীয়দের যাতায়াত সীমিত হওয়ার সুযোগ নিয়েই এই ধরনের অনুপ্রবেশ বাড়ছে। এর আগে চ্যাঙড়াবান্ধার ধরলা নদীতেও একই ধরনের দুষ্কর্ম ঘটেছিল। ফলে সীমান্তে প্রহরা আরও কঠোর করার দাবি তুলেছেন সীমান্তবাসীরা।
বিধায়কের ‘গুলি করার’ হুঙ্কার এবং সীমান্তে ঘন ঘন অনুপ্রবেশের ঘটনায় নতুন করে বড় প্রশ্ন উঠেছে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আইন মোতাবেক জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।