‘প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না!’ আদালতের রায় উড়িয়ে বিস্ফোরক বার্তা নেহার

পিস বন্ড বা মুচলেখায় কোনোভাবেই সই করবেন না—দিল্লি হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরেও নিজের অবস্থানে অনড় রইলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সভানেত্রী নেহা বোরা। নির্বাচন কমিশন (ECI)-বিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত থাকার শর্তে সম্প্রতি তাঁকে ১০ হাজার টাকার পিস বন্ডে সই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত তাঁর সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। তবে আইনি ধাক্কা সত্ত্বেও পিছপা হতে নারাজ এই যুবনেত্রী।
পিস বন্ড নিয়ে কী বললেন নেহা বোরা?
আদালতের রায় খারিজ হওয়ার পর স্পষ্ট ভাষায় নেহা বোরা বলেন, এই পিস বন্ডকে ঘুরপথে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সুতরাং, প্রতিবাদী আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে কাউকে এভাবে পিস বন্ডে সই করানো সম্পূর্ণ অনৈতিক।
নেহার সাফ কথা, “আমাদের দেশের নাগরিকেদের প্রধান দুটি অধিকার রয়েছে—একটি হলো গণতন্ত্রে ভোট দেওয়ার অধিকার, অন্যটি নিজের মত প্রকাশ ও জোরালো প্রতিবাদ করার অধিকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়ার অধিকারই যখন বিঘ্নিত হচ্ছে, তখন তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের পবিত্র কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।”
কেন আটক হতে হয়েছিল নেহাকে?
SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের জোরালো অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন নেহা বোরা। গত ১৬ অক্টোবর ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। এর পরের দিন, ১৭ অক্টোবর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপরই পুলিশের এই নোটিস ও শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন AISA সভাপতি। কিন্তু পুলিশের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।
আদালতে কী সওয়াল হয়েছিল?
নেহা বোরার পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি যুক্তি দেন যে, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো কাজের জন্য আলাদা করে কোনো সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হয় না। বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নোটিস জারির সময় নিজের যথাযথ বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেননি বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি, শান্তিভঙ্গ হওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তপোক্ত তথ্যপ্রমাণও পুলিশের হাতে ছিল না বলে দাবি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, মাণ্ডি হাউসের গোলচত্বরে বিক্ষোভ চলাকালীন নেহা অত্যন্ত জোরালো স্লোগান দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যন্তরমন্তর ও তার আশেপাশে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভে লোকজনকে উৎসাহিত করা এবং অনুমতি না নিয়েই জাতীয় পতাকা তোলার মতো একাধিক অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল। আইনি লড়াইয়ের ময়দানে ধাক্কা এলেও নেহা বোরার এই আপসহীন মনোভাব ঘিরে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।