৫ লক্ষ টাকা ফিক্সড করলে ব্যাঙ্ক নাকি পোস্ট অফিস—কোথায় পাবেন সবচেয়ে বেশি রিটার্ন?

শেয়ার বাজারে লাগাতার পতনের জেরে কপালে হাত পড়েছে আমানতকারীদের। সেনসেক্স ও নিফ্‌টি—উভয় প্রধান সূচকেই ধাক্কা লাগায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নতুন করে শেয়ারে ঝুঁকি নিতে নারাজ। বরং তাঁরা এমন নিরাপদ জায়গার সন্ধান করছেন, যেখানে বাজারের ওঠানামার কোনো ঝুঁকি থাকে না। রিটার্ন কিছুটা কম হলেও মূল টাকা সুরক্ষিত থাকবে—এই ভাবনা থেকেই অনেকেই ঝুঁকছেন ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD), পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট (RD) এবং টাইম ডিপোজিটের দিকে। তবে বিনিয়োগের আগে কোন স্কিমে ঠিক কত লাভ পাবেন, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

১. পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট (RD)

পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিটে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা রাখার সুযোগ নেই। এই প্রকল্পে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করতে হয়। যদি আপনি ৫ বছরে মোট ৫ লক্ষ টাকা জমানোর পরিকল্পনা করেন, তবে প্রতি মাসে প্রায় ৮,৩৩৪ টাকা করে জমাতে হবে। বর্তমান বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ সুদের হার হিসাব করলে, মেয়াদ শেষে আপনার মোট প্রাপ্তি হতে পারে প্রায় ৫,৯১,৬৩৪ টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র সুদ বাবদ আপনার আয় হবে প্রায় ৯১,৬৩৪ টাকা। তবে প্রকৃত অঙ্ক জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

২. পোস্ট অফিসের পাঁচ বছরের টাইম ডিপোজিট (TD)

এককালীন জমানোর ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের পাঁচ বছরের টাইম ডিপোজিট বেশ লাভজনক বিকল্প হতে পারে। এখানে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ সুদের হার হিসাব করলে, ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে মোট প্রায় ৭,২৪,৯৭৪ টাকা ফেরত পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে শুধুমাত্র সুদ বাবদ আয় হবে প্রায় ২,২৪,৯৭৪ টাকা। তাছাড়া, এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আয়কর আইনের ৮০সি ধারার আওতায় কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে বিনিয়োগের পূর্বে বর্তমান করছাড়ের নিয়মগুলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

৩. ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD)

নিরাপদ বিনিয়োগের তালিকায় সবার প্রথমে আসে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট। কোনো জাতীয়কৃ্ত বা নামী ব্যাঙ্কে ৫ বছরের FD-তে যদি ৭ শতাংশ সুদ ধরা হয়, তবে ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে প্রায় ৭,০৭,৩৮৯ টাকা পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, সুদ থেকে আপনার মোট আয় হবে প্রায় ২,০৭,৩৮৯ টাকা। তবে মনে রাখবেন, বিভিন্ন ব্যাঙ্কভেদে সুদের হার এবং সুদ গণনার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, যার ফলে চূড়ান্ত অঙ্কে সামান্য তারতম্য দেখা যেতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লেখিত সমস্ত হিসাব বর্তমান আনুমানিক সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের বর্তমান সুদের হার এবং সমস্ত নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নিন। শেয়ার বাজারে যেমন ঝুঁকি বেশি, তেমনই যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন ও আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করে তবেই পদক্ষেপ করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *