‘বাংলা দখল করতে কারচুপি করেছে বিজেপি!’-বিস্ফোরক অভিযোগ নাসিরুদ্দিন শাহর

স্পষ্ট বক্তা হিসাবেই পরিচিত বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। দেশের ছোট-বড় নানা ইস্যু নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে তিনি কখনোই পিছপা হন না। অতীতে ককরোচ পার্টির আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছিল সিজিপি (CJP)। আর এবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর পড়ুয়াদের আন্দোলন—একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরাসরি কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে নিশানা করে খোদ ময়দানে নামলেন এই অভিনেতা। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলার নির্বাচন ও বিজেপির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ

বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে তুলে ধরেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বাংলার নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য কারচুপির চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে সচেতনভাবে প্রতিহিংসার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

SRFTI-এর পড়ুয়াদের হেনস্থা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

নাসিরুদ্দিনের এদিনের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে কলকাতার এসআরএফটিআই (SRFTI)-এর পড়ুয়াদের ওপর নেমে আসা প্রশাসনিক কোপের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, এই প্রতিহিংসার রাজনীতির সর্বশেষ শিকার হয়েছেন এসআরএফটিআই-এর তরুণ পড়ুয়ারা ও উদীয়মান পরিচালকেরা। প্রশাসনের কাছে কাজের জবাবদিহিতা চাওয়ার অপরাধে ওই শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ ধরানো হয়েছে, কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে, বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত হস্টেল খালি করে দিতে পর্যন্ত বাধ্য করা হচ্ছে।

অভিনেতার সাফ কথা, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসে SRFTI ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের অন্দরে উত্তেজনা এবং পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। নাসিরুদ্দিনের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ যাঁদের হাতে, সেই তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখিয়ে বা দমন করে কখনো থামিয়ে রাখা যায় না। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে স্বাধীন চিন্তা এবং মতপ্রকাশের অবাধ সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বরাবরই প্রতিবাদী মুখ নাসিরুদ্দিন শাহ

অবশ্য এই প্রথমবার নয় যে নাসিরুদ্দিন শাহ ছাত্রদের আন্দোলনকে প্রকাশ্য সমর্থন জানালেন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্র বিক্ষোভের ওপর চলা পুলিশি নির্যাতন ও প্রশাসনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করতে দেখা গেছে তাঁকে। জুলাই মাসে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময়ও সোচ্চার হয়েছিলেন এই অভিনেতা। বারংবার সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর এই দ্ব্যর্থহীন অবস্থান প্রমাণ করে যে, দেশের নীতি ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি বরাবরই আপসহীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *