দুয়ারে ডাল, তেল, সয়াবিন পাঠাবে সরকার, বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ঝাড়গ্রামের কালাঝরিয়ায় গিয়ে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ উপজাতি গোষ্ঠীর পরিবারগুলির পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করা হলো, যা নিয়ে আগে থেকেই বাজেটে বিশেষ ঘোষণা করেছিল সরকার।

কী থাকছে এই পুষ্টিকর কিটে?

এদিনের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জঙ্গলমহল ও ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নতিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উপজাতি পরিবারগুলির বাড়িতে বাড়িতে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক অভিনব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাজেটে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার সফল রূপায়ণ হলো। বাড়িতে বাড়িতে যাতে পুষ্টিকর খাবার সঠিকভাবে পৌঁছায়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যারা খাবার দিতে যাবেন, তাঁদের কাছে বায়োমেট্রিক ডিভাইস থাকবে। বায়োমেট্রিক স্ক্যান করেই খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে, যাতে কোনোভাবেই কোনো পরিবার বঞ্চিত না হয়।”

বিতরণ তালিকায় সাধারণ চাল, ডালের পাশাপাশি রাখা হয়েছে সয়াবিন ও রাগি-র মতো অত্যন্ত পুষ্টিকর উপাদান। প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনার পাশাপাশি এই বিশেষ পুষ্টিকর কিটটি সরাসরি অপুষ্টিতে ভোগা উপজাতি পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে।

কতগুলি পরিবার লাভবান হবে?

প্রশাসন সূত্রে খবর, এই মেগা প্রকল্প থেকে রাজ্যের প্রায় ৭০ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন। এর মধ্যে একুশ শতকের জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ঘোষণা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, জঙ্গলমহলের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে রাখতেও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসটি (ST) জনজাতির ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার উৎসাহ দিতে ৮০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই খাতে প্রায় ২ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মোট ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে একা ঝাড়গ্রাম জেলারই ৮৮ হাজার ৩৬ জন ছাত্রছাত্রী এই বৃত্তির সুবিধা পেয়েছেন।

পাশাপাশি, জাড়গ্রামের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিপুল অর্থে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সৌরশক্তি চালিত আলো এবং আধুনিক কমিউনিটি হল নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *