‘প্রমাণ ছাড়া কুৎসা বরদাস্ত নয়!’ ফলহারি মহারাজকে একঘরে করল সন্ত সমাজ, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের জেরে শোরগোল

বিশিষ্ট সন্ত ও ধর্মাচার্যদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে কঠোর সিদ্ধান্তের ঘোষণা করল সাধু-সন্ত সমাজ। বৃহস্পতিবার সিদ্ধপীঠ হনুমান টেকরি আশ্রমে সন্ত সমাজের এক বিশাল ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। সেই সভাতেই দীনেশ ফলহারি ওরফে দীনেশ শর্মা, যিনি ‘ফলহারি মহারাজ’ নামেই পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে একযোগে নিন্দা প্রস্তাব পাস করা হয়। পাশাপাশি, তাঁকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে সম্পূর্ণ বয়কট করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের একাধিক প্রবীণ ও বিশিষ্ট সন্ত, ধর্মাচার্য এবং ব্রজবাসীরা। প্রেমানন্দ মহারাজ সহ অন্যান্য গণ্যমান্য আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

সন্ত সমাজের কড়া বার্তা ও ক্ষোভ
ধর্মসভায় গীতা মনীষী স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ এবং পিপাদ্বাচার্য স্বামী বলরাম দেবাচার্য মহারাজ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, সন্ত সমাজের মর্যাদা এবং সনাতন ধর্মের সম্মান নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যায় না।

হনুমান টেকরির মহন্ত দশরথ দাস মহারাজ এবং ভাগবত নিবাসের মহন্ত যুগল চরণ দাস অভিযোগ করেন, দীনেশ ফলহারি গত বেশ কিছুদিন ধরে কোনো ধরনের পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই দেশের বিশিষ্ট সন্ত ও ধর্মাচার্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর ও অমূলক অভিযোগ তুলে চলেছেন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকারী ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বয়কট করাই একমাত্র উপযুক্ত পদক্ষেপ।

চতুঃসম্প্রদায়ের মহন্ত ফুলদোল বিহারী দাস মহারাজ এবং মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী রামস্বরূপ দাস মহারাজ জানান, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পরেও দীনেশ ফলহারি প্রেমানন্দজি মহারাজের বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নতুন এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করে চলেছেন। মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী ডক্টর আদিত্যনন্দ গিরি মহারাজ এবং স্বামী কৃষ্ণানন্দ মহারাজ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির দ্বারা সন্তদের পুরনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো প্রচার করার তীব্র নিন্দা করেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সভায় আচার্য মৃদুল কান্ত শাস্ত্রী এবং সুভাষ গৌড় লালা বলেন, যে কোনো ব্যক্তিরই তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে কারও সম্মান ও সুনাম নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

স্বামী গোবিন্দানন্দ তীর্থ মহারাজ এবং মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী সুন্দর দাস মহারাজের মতে, এই গোটা বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট একজন সন্ত বা একক কোনো আশ্রমের মানহানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমগ্র সন্ত সমাজের সম্মান, মর্যাদা এবং সনাতন ঐতিহ্যের সুরক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সবশেষে, স্বামী অতুলকৃষ্ণ দাস মহারাজ এবং আচার্য জ্ঞানেশ মহারাজ দীনেশ ফলহারির এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা করে তাঁকে সমগ্র সমাজ থেকে একঘরে ও বয়কট করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *