“দিপাবলী পর্যন্ত আন্দোলন-বিক্ষোভ নয়”-বড় ঘোষণা করলেন CJP-র অভিজিৎ দীপকে

দীপাবলি পর্যন্ত সমস্ত ধরনের প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। মঙ্গলবার এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। উৎসবের এই বিশেষ মরশুমে তিনি তাঁর সমস্ত সমর্থকদের রাজনৈতিক কোলাহল থেকে দূরে থেকে নিজের নিজের পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর আবেদন জানিয়েছেন।
CJP কর্মীদের অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে ‘ককরোচ’ বলে সম্বোধন করেন অভিজিৎ দীপকে। ভিডিও বার্তায় তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এই মুহূর্তে আমি আপনাদের সকলকে, আমার সমস্ত ককরোচকে অনুরোধ করতে চাই, আগামী কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। সামনেই দীপাবলির আনন্দ উৎসব আসছে। গত কয়েক দিনে রাজপথে যা যা ঘটেছে, তার পর আপনাদের পরিজনেরা নিশ্চিতভাবেই ভীষণ চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন রয়েছেন।” অভিজিৎ আরও যোগ করেন যে, আন্দোলনের ডামাডোলে কেবল সমর্থকদের পরিবারই নয়, তাঁর নিজের বয়স্ক বাবা-মা এবং দলের দুই গ্রেফতার হওয়া বর্ষীয়ান নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বাবা-মাও চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই এই মুহূর্তে প্রিয়জনদের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
তবে পারিবারিক বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি CJP প্রতিষ্ঠাতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ দাবি করেন, CJP-র উদীয়মান নেতাদের অন্যায়ভাবে জেলে আটকে রাখতে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক শক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী।
জেলবন্দি সহকর্মীদের মনের জোর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিজিৎ জানান, সৌরভ দাস একসময় মনে করতেন তিনি এক দিনও জেলে কাটাতে পারবেন না। কিন্তু টানা পাঁচ দিন হাজতবাসের পরেও তিনি যখন আদালতে হাসিমুখে হাজির হন, তখন তাঁর চোখেমুখে বিন্দুমাত্র ভয়ের ছাপ দেখা যায়নি। বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ার পরও সৌরভের এই নির্ভীক মনোভাবকেই আসল শক্তির পরিচয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইভাবে অপর নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও পাঁচ দিন বন্দি থাকার পর আদালতের সামনে অকুতোভয় ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ফের দু’দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হলে এই নির্দেশ আসে। এর আগে ১৩ অক্টোবর তাঁদের ৫ দিনের জন্য হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। গত ১২ অক্টোবর যন্তর মন্তরকে সংরক্ষিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সত্ত্বেও তালাবন্ধ গেট টপকে ভিতরে প্রবেশ করার অভিযোগে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। সেখানে তাঁরা জাতীয় পতাকা হাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর প্রতিবাদে CJP ও বিরোধী দলগুলির এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার নেয়, যা বর্তমানে দীপাবলি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।