পুজো শেষ হতেই বড় ধাক্কা! শিয়ালদা ডিভিশনে বাতিল ও পরিবর্তিত একাধিক লোকাল ট্রেন, রইল সম্পূর্ণ তালিকা

পুজো শেষ হতেই শহরজুড়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের পালা। আর এই কদিনের জন্য চক্ররেলে যাতায়াত করবেন যাঁরা, তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশন। বুধবার দুপুরের পর থেকেই শহরের মণ্ডপগুলিতে মায়ের বিদায় নেওয়ার পর্ব শুরু হয়ে যাবে। ঘাটে ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে এবং উৎসবের শেষ মুহূর্তের ভিড় সামলাতে প্রশাসন যেমন কড়া পদক্ষেপ করছে, তেমনই রেল পরিষেবাতেও বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের দিনগুলিতে সার্কুলার রেলওয়ের ট্রেন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকছে। মাঝের দিনগুলিতে পরিষেবা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, আগামী ২৬ ও ২৭ অক্টোবর লক্ষ্মী প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্যও ফের ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে যারা এই কদিন ট্রেন ধরে যাতায়াত করার কথা ভাবছেন, তাঁদের আগে থেকেই রুট বদল বা সময়সূচি নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
কোন কোন ট্রেনের সময় ও রুটে পরিবর্তন আনা হয়েছে?
রেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর এবং ২৬ ও ২৭ অক্টোবর বেশ কিছু লোকাল ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত বা ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে:
• ৩১২২২, ৩০৩১২ এবং ৩০৩১৪ নম্বর ইএমইউ লোকালগুলি নির্দিষ্ট দিনগুলিতে টালা স্টেশন পর্যন্তই চলাচল করবে। অন্যদিকে, ৩০৩৩১, ৩০১১১ এবং ৩০৩১৩ নম্বর ট্রেন তিনটি টালা স্টেশন থেকেই নিজেদের যাত্রা শুরু করবে। • নির্দিষ্ট দিনগুলিতে ৩০৭১১ লক্ষ্মীকান্তপুর-মাঝেরহাট লোকাল মাঝেরহাট পর্যন্ত না গিয়ে বালিগঞ্জ স্টেশন পর্যন্তই চলবে। • ৩০৩৩২ হাবরা-মাঝেরহাট লোকাল কাঁকুড়গাছি রোড জংশন এবং বালিগঞ্জ রুট হয়ে মাঝেরহাটে পৌঁছাবে। এছাড়া ৩০১৩৫ এবং ৩০৩৫৩ মাঝেরহাট-রানাঘাট ও মাঝেরহাট-দত্তপুকুর লোকাল বালিগঞ্জ ও কাঁকুড়গাছি রোড ঘুরে গন্তব্যের দিকে রওনা দেবে। ৩০৩১৭ মাঝেরহাট-দত্তপুকুর লোকাল বালিগঞ্জ স্টেশন থেকেই সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথে চলাচল করবে। • ৩০৪১৬ শিয়ালদা-বিবাদী বাগ লোকাল মাঝেরহাটে এসেই যাত্রা শেষ করবে। আর ৩০৪৫১ বিবাদী বাগ-বারুইপুর লোকাল মাঝেরহাট থেকেই ছাড়বে। পাশাপাশি, ৩০১৪৪ গেদে-মাঝেরহাট লোকাল শিয়ালদা পর্যন্ত আসবে এবং ৩০১২৩ মাঝেরহাট-নৈহাটি লোকাল শিয়ালদা থেকেই যাত্রা শুরু করবে।
উৎসবের আনন্দ ও প্রতিমা নিরঞ্জনের জেরে কলকাতার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় যে ব্যাপক যানজট হতে পারে, তা এড়াতে এবং যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রেলের এই পরিকল্পনা। তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে অবশ্যই ট্রেনের এই পরিবর্তিত সময়সূচি ও রুট ভালোভাবে দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, না হলে স্টেশনে গিয়ে বড়সড় ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।