CR পার্কে দুর্গাপুজোয় ধুন্ধুমার! মণ্ডপে পুলিশ ও CRPF জওয়ান নামানো নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

উৎসবের আনন্দ ও শারদোৎসবের আবহেই রাজধানীতে চরম বিতর্ক। দিল্লির বিখ্যাত চিত্তরঞ্জন পার্কের (CR Park) একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার পারদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পুজোর মণ্ডপের বাইরে প্রচুর সংখ্যায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসেনা CRPF জওয়ানেরা অবস্থান করছেন। বাঙালি সম্প্রদায়ের পুজো উদযাপনে বাধা দেওয়া, আয়োজকদের হেনস্থা করা এবং মণ্ডপ খালি করার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশিকা মেনেই শব্দদূষণ রোধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল চিত্তরঞ্জন পার্কে?

লেখক তথা সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করার পরেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিয়োয় দক্ষিণ দিল্লির সিআর পার্কের বি-ব্লক দুর্গাপুজো মণ্ডপের বাইরে বিপুল পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনীর উপস্থিতি নজরে পড়ে।

সিআর পার্কের বাসিন্দা অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধরের বরাত দিয়ে পরঞ্জয় দাবি করেন, গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ লাঠি হাতে প্রায় ২০ জন CRPF জওয়ান মণ্ডপের দিকে এগিয়ে আসেন। সেই সময় মণ্ডপে বহু মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে পুজোর আনন্দে মেতেছিলেন। পুজো কমিটির সদস্যরা এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং জওয়ানদের সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিডোগুলিতে জওয়ানদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও, তাঁরা মণ্ডপের ভেতরে ঢুকেছিলেন কি না বা জোর করে তা খালি করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।

তবে অন্যান্য বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীও পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, রাত ১১টার পর সাইরেন বাজিয়ে প্রচুর পুলিশ এবং আধাসেনা গোটা এলাকায় টহল দেয় এবং নিয়ম দেখিয়ে উৎসবের আমেজ বন্ধ করার চেষ্টা করে।

আম আদমি পার্টির (AAP) কড়া আক্রমণ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানীতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। দিল্লির শাসকদল বিজেপি ও দিল্লি পুলিশকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে আম আদমি পার্টি (AAP)। দলের দিল্লি শাখার সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, সুপরিকল্পিতভাবে বাঙালি সম্প্রদায় এবং সিআর পার্কের দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে হেনস্থা করা হচ্ছে।

দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দফতরকে ট্যাগ করে সৌরভ এক্স-এ লেখেন, বাঙালি সমাজ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ও ভদ্র বলে পরিচিত, তবুও তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, যেখানে দিল্লি সরকার ২৪ ঘণ্টা ব্যবসা চালু রাখার অনুমতি দিচ্ছে এবং রামলীলা উৎসব মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাঙালিদের দুর্গাপুজোর বেলায় কেন আলাদা এবং কড়া নিয়ম প্রযোজ্য হবে?

গ্রেটার কৈলাশ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ আরও দাবি করেন, পুলিশ জোর করে মণ্ডপে ঢুকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল এবং কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক কলকাতার চোরবাগান এলাকার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপে বড় ধরনের পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করল দিল্লি পুলিশ

বিতর্ক বাড়ার পরেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিয়েছে দক্ষিণ দিল্লি পুলিশ। ডিসিপির (DCP) সরকারি এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, সিআর পার্কের দুর্গাপুজো মণ্ডপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। পুজোর আনন্দে বাধার সৃষ্টি করা পুলিশের বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না।

পুলিশের সাফাই, সুপ্রিম কোর্ট ও আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতেই তারা সেখানে গিয়েছিল। আগের বিভিন্ন বৈঠকেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া সত্ত্বেও আয়োজকরা সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও উচ্চ শব্দে মাইক ও গান বাজাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। সকলের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতেই পুলিশ দায়বদ্ধ বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় একদিকে যেমন আইনি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই পুজোর মরশুমে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *