চোরবাগানের ঘটনার জের, কলকাতার ৩ বিখ্যাত পুজো কমিটিকে বড় নোটিস দমকলের

উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মর্মান্তিক বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নি-নিরাপত্তার ত্রুটি এড়াতে আসরে নেমেছে রাজ্য সরকারের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পরিদর্শক দল। এরই ধারাবাহিকতায় অগ্নি-নিরাপত্তায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে কলকাতার তিনটি নামী ও ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটিকে নোটিস পাঠাল দমকল বিভাগ। একইসঙ্গে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে কড়া নজরদারি ও একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
কোন ৩টি পুজো কমিটি নোটিস পেল?
দমকল বিভাগ ও সরকারের বিশেষ পরিদর্শক দলের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ার পর যে তিনটি পুজো কমিটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হলো— চেতলা অগ্রণী, বালিগঞ্জ কালচারাল এবং ত্রিধারা সম্মিলনী।
বিশেষ করে ত্রিধারা সম্মিলনীর পুজো মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় বিপুল পরিমাণ অতিদাহ্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিদর্শকদের মতে, সামান্য ত্রুটি থেকে সেখানে আগুন লাগলে বিষাক্ত ধোঁয়া উৎপন্ন হয়ে মারাত্মক জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই তিনটি কমিটিকে অবিলম্বে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের সুরক্ষা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেই ত্রুটি সংশোধন করতে বলা হয়েছে।
কড়া নির্দেশিকা ও ভিআইপি এন্ট্রি বাতিল
চোরবাগানের সেই বিপর্যয়ের পর নবান্ন ও লালবাজার যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে। উৎসবের মরশুমে শহরের সমস্ত বড় পুজো মণ্ডপে ভিআইপি এন্ট্রি বা বিশেষ পাস সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। ত্রিধারা সম্মিলনী এবং বালিগঞ্জ কালচারালের মতো পুজো কমিটিগুলি তাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই নিয়ম বলবৎ হওয়ার কথা ইতিমধ্যেই জনসাধারণকে জানিয়ে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, ভিড় এড়াতে এবং দুর্ঘটনা রোধ করতে মণ্ডপের ভেতরে দর্শনার্থীদের ছবি তোলা বা ভিডিও করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে ৯ জন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিককে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতায় ফিরিয়ে এনে নিরাপত্তার দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে উৎসবের আনন্দ বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষাকেই যে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।