পুজোয় কি আস্ত দু’দিন মিলল সপ্তমী? আজ না কাল—আসল কোন দিনে করবেন মায়ের আরাধনা?

পুজোয় যদি একটুর জায়গায় আস্ত দু’দিন সপ্তমী পাওয়া যায়, তবে তো উৎসবের আনন্দ আর উন্মাদনা দ্বিগুণ হওয়ারই কথা! কিন্তু এই ‘সপ্তমী দুই দিন’ পাওয়া নিয়েই এখন বাঙালি ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে চরম দ্বন্দ্ব। আজ সপ্তমী নাকি কাল— উৎসবের দিনে আচার-বিধি বা পুজো নিয়ে এই ধন্দ কাটাতে চোখ রাখতেই হচ্ছে পঞ্জিকার পাতায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী বলছে সঠিক শাস্ত্রীয় নির্দেশিকা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৯শে আশ্বিন, শনিবার অর্থাৎ আজ দিনভর ও রাত জুড়ে রয়েছে সপ্তমী তিথির একচ্ছত্র আধিপত্য। অর্থাৎ আজ সপ্তমী অহোরাত্র। আর এই দিনেই মহাসমারোহে সম্পন্ন হচ্ছে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন এবং সপ্তমীবাহিত মূল পুজো। তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে, রবিবার তবে কীসের সপ্তমী?

দ্বিতীয় সপ্তমীর নির্ঘণ্ট ও ধন্দ: পঞ্জিকার হিসাব বলছে, আগামীকাল রবিবার সকাল ৫টা বেজে ৫৩ মিনিট পর্যন্ত সপ্তমী তিথির অবশেষ রয়েছে। আর এই স্বল্প সময়ের অংশটুকুই অনেকের মনে ধন্দের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ভাবছেন, তবে কি আসল পুজো রবিবার?

তবে শাস্ত্রীয় বিধান ও পঞ্জিকার নির্দেশ স্পষ্ট বলছে, মূল সপ্তমীর আচার-অনুষ্ঠান, কল্পারম্ভ এবং মায়ের আরাধনার প্রধান দিনটি শনিবারেই হচ্ছে। তবে আনন্দের বিষয় হলো, রবিবারের ওই অল্প সময়টুকু নিয়েও পুজোপ্রেমীদের উৎসাহে ভাটা পড়ছে না; বরং ছুটির দিনে সবাই মিলে আরও একটা দিন আনন্দে-হইহুল্লোড়ে কাটিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ মিলছে। এরপর আগামী ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের আগেই সেরে ফেলতে হবে মহাষ্টমীর অঞ্জলি।

একনজরে মহাষ্টমীর পুজোর নির্ঘণ্ট:

  • অষ্টমী তিথি শুরু: ১৮ অক্টোবর, রবিবার, সকাল ৫টা ৫৩ মিনিট।

  • অষ্টমী তিথি শেষ: ১৯ অক্টোবর, সোমবার, সকাল ৭টা ৫০ মিনিট (১ কার্তিক)।

  • পূর্বাহ্ন: সকাল ৯টা ২৮ মিনিট।

  • অঞ্জলি ও কল্পারম্ভের সময়: সকাল ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী আদি কল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা, বীরাষ্টমী ব্রত, মহাষ্টমীর ব্রত-উপোস এবং অঞ্জলি সম্পন্ন করতে হবে।

  • সন্ধিপুজো: শুরু— সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে; শেষ— সকাল ৮টা ১৪ মিনিটের মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *